ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় স্বর্ণপদক পেলেন দুই শিক্ষার্থী

ইন্দোনেশিয়ায় স্বর্ণপদক পেলেন দুই শিক্ষার্থী
×

ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিতাস নেগেরি জাকার্তা’য় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জয়ী নাইম ইসলাম ও আবু হোসাইন সমকাল

 বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬ | ০৮:৩০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক জিতে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দুই শিক্ষার্থী নাইম ইসলাম ও আবু হোসাইন। তাদের উদ্ভাবিত ‘অটোম্যাটিক ফিশ ব্রিডিং মেশিন’ প্রকল্পটি বিচারকদের মুগ্ধ করে স্বর্ণপদক অর্জন করে।

গত ৫ জুন ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অবস্থিত ‘ইউনিভার্সিতাস নেগেরি জাকার্তা’য় (ইউএনজে) চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৬টি দেশের ৪০০ দলের প্রায় ১ হাজার ৩০০ প্রতিযোগী অংশ নেন। তাদের মধ্যে নাইম ইসলাম ও আবু হোসাইনের উদ্ভাবন বিচারকদের মুগ্ধ করে। বর্ণাঢ্য এই প্রতিযোগিতা শেষে স্বর্ণপদক নিয়ে গত রোববার দেশে ফেরেন স্বর্ণজয়ী এ দুই শিক্ষার্থী।
নাইম ইসলাম বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের পঞ্চম পর্বের এবং আবু হোসাইন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (সিএসটি) বিভাগের সপ্তম পর্বের শিক্ষার্থী। 
নাইম ইসলাম ধুনট উপজেলার মাঠপাড়া গ্রামের স্কুলশিক্ষক আব্দুল বাছেতের ছেলে এবং আবু হোসাইন সারিয়াকান্দি উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের ব্যবসায়ী আবুল কালাম আজাদের ছেলে।

উদ্ভাবকরা জানান, অটোমেটিক ফিশ ব্রিডিং মেশিন মৎস্য প্রজনন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও লাভজনক করতে সক্ষম। হরমোনমুক্ত প্রজনন, স্বয়ংক্রিয় পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ, কম খরচ ও সহজ ব্যবহারযোগ্যতার কারণে এটি ভবিষ্যতের স্মার্ট অ্যাকোয়াকালচারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হলেও পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি তাদের।
দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, রোবোটিক্স ও উদ্ভাবনভিত্তিক গবেষণায় যুক্ত থাকা এ দুই শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উদ্ভাবন উপস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণদের সৃজনশীলতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরেছেন।

স্বর্ণপদক জয়ের অনুভূতি জানিয়ে নাইম ইসলাম ও আবু হোসাইন বলেন, ‘বাংলাদেশের পতাকা হাতে স্বর্ণপদকের ঘোষণা শোনা ছিল জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। এটি শুধু আমাদের অর্জন নয়; দেশের তরুণদের মেধা ও উদ্ভাবনী শক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।’
নাইমের বাবা আব্দুল বাছেত ও মা জাহানারা বেগম জানান, সন্তানের এমন সাফল্যে তারা গর্বিত ও আবেগাপ্লুত। তাদের মতে, এটি শুধু পরিবারের নয়, পুরো দেশের অর্জন। এ ধরণের আয়োজন তরুণ শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে।
বগুড়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমাদের শিক্ষার্থীদের এই অর্জন প্রতিষ্ঠানের জন্য গর্বের। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের সাফল্য দেশের কারিগরি শিক্ষার সম্ভাবনাকেও নতুনভাবে তুলে ধরেছে। এ ধরণের আয়োজন আরও বেশী বেশী হওয়া প্রয়োজন।’
 

আরও পড়ুন

×