চট্টগ্রামে সাড়ে তিন বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ১৭:৫৭
চট্টগ্রামে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। মামলার বাদী, ওই শিশুটির বাবাসহ শিশুর নানি, নানা, খালা এবং কলোনির কেয়ারটেকার সাক্ষ্য দিয়েছেন। বুধবার চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমার আদালতে এ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। একই দিন রাষ্ট্র কর্তৃক নিযুক্ত আইনজীবী সাক্ষীদের জেরাও সম্পন্ন করেছেন।
ট্রাইব্যুনালের পিপি মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী বলেন, ‘সাড়ে তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। শিশুটির বাবা এ ব্যাপারে সাক্ষ্য দিয়েছেন। একই সাথে আরও চারজন বুধবার সাক্ষ্য দিয়েছেন।’
অভিযুক্ত মনির হোসেনের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী জি এম জাহেদ হোসেন বলেন, ‘শিশুটির নানি মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তিনি জেরায় জানিয়েছেন, আসামি মনির হোসেন শুরুতে কিছু স্বীকার করেননি। এলাকাবাসী মারধর করে স্বীকারোক্তি নিয়েছে। শয়তানের প্ররোচনায় সে এই কাজ করেছে বলেছিল ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্য ও জেরা করা হলে বোঝা যাবে আসামির কতটুকু দোষ আছে। সেই সাথে মেডিকেল অফিসারের সাক্ষ্য ও জেরায় জানা যাবে আসামির প্রকৃত অপরাধ কী। আমরা চাই না কোনো নিরাপরাধ ব্যক্তি সাজা পাক।’
মামলার বাদী ঢাকা থেকে ফেরার সময় ও মামলা হওয়ার সময়ের অসংগতি, শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট আসামির ডিএনএ-এর সাথে না মেলানোসহ আরও বেশকিছু বিষয়ে জেরায় প্রশ্ন করা হয়েছে বলে জানান জি এম জাহেদ হোসেন।
গত মঙ্গলবার এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে অভিযুক্ত মনির হোসেনের বিচার শুরুর আদেশ দেন বিচারক সৈয়দা হাফছা ঝুমা। প্রায় দুই সপ্তাহ তদন্তের পর গত ৪ জুন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তানভীর আহমেদ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেখানে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯ (১) ধারায় ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়। এর আগে শিশুটির ডিএনএ রিপোর্ট গ্রহণ এবং ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি ও ভুক্তভোগী শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশ। এ মামলার মোট ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২১ মে বিকেলে চট্টগ্রাম শহরের একটি এলাকায় সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে আটক করে। আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে উত্তেজিত জনতা ও স্থানীয়রা। গত ২২ মে বিকেলে চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিকের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন মনির হোসেন।
৩২ বছর বয়সী মনিরের বাড়ি কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। চট্টগ্রামের একটি ডেকোরেটরের দোকানে চাকরি করতেন মনির। ঘটনার দিন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চমেক হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। সেদিন গভীর রাতে শিশুটির বাবা বাকলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
- শিশু ধর্ষণ
- আদালত