দৌলতপুর সীমান্ত
খোলা আকাশের নিচে ৩ দিন ধরে ১২ জন
নো-ম্যানস ল্যান্ডের কাছে ভারতীয় ভূখণ্ডে একটি পাটক্ষেতে অবস্থান করছেন ওই ১২ জন। ছবি: সংগৃহীত
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৩:৩৩ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১৪:৫০
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর সীমান্তে গত তিন দিন ধরে নারী পুরুষ ও শিশু মিলিয়ে ১২ জন্য খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। বিজিবি ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের অনড় অবস্থানের কারণে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমানে ওই ১২ জন শূন্যরেখার কাছাকাছি ভারতীয় ভূখণ্ডে একটি পাটক্ষেতে অবস্থান করছেন। চারদিকে কাঁটাতারের বেড়া, মাথার ওপর তীব্র রোদ এবং নিচে সাপ ও পোকামাকড়ের আতঙ্কে রয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে চার নারী ও চার শিশু রয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোররাতে ভারতের চরমেঘনা সীমান্ত এলাকা দিয়ে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে। এ সময় বিজিবি বাধা দিলে তারা সেখানে আটকে পড়ে।
পরবর্তী সময়ে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতপুরের বিলগাথুয়া সীমান্তের ১৫০-থ্রি এস সাব-পিলার এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২০ মিনিটের ওই বৈঠকে বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন রাণীনগর ক্যাম্পের সহকারী কমান্ড্যান্ট সুনীল কুমার যাদব এবং বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে কোনো সমঝোতা হয়নি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে পুশইনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয় এবং তাদের ভারতীয় নাগরিক হলে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হয়। তবে বিএসএফ পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, আটকে পড়া ব্যক্তিরা ভারতীয় নাগরিক কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়া কতদিন চলবে সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
এদিকে সীমান্তের ওই পাটক্ষেতে আটকে পড়া মানুষদের মানবিক দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তীব্র গরম, খাবার ও পানির সংকটে তাদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা মানবিক কারণে তাদের খাবার ও পানি সরবরাহ করছেন বলে জানান।
৪৭ বিজিবি কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশইনের চেষ্টা সফল হতে দেওয়া হবে না। বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং মানবিক বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে।
