কালীগঞ্জে অবৈধ মাটি বাণিজ্য
নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সড়ক, বাড়ছে দুর্ঘটনা-ভোগান্তি
কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৪ | আপডেট: ১৭ জুন ২০২৬ | ১০:৩৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
কালীগঞ্জে দিনে ও রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটা ও ভরাট কাজে বিক্রি করা হচ্ছে। ওই মাটি টানা ট্রাক্টর ও যানবাহন থেকে মাটি পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক। পড়ে থাকা মাটি কাদা হয়ে পাকা সড়কের বিটুমিন নষ্ট করছে। তাতে কোটি কোটি টাকার গ্রামীণ, মহাসড়কের ক্ষতিসহ বাড়ছে দুর্ঘটনা। অপরদিকে এসব বাহনের শব্দদূষণ এবং শুষ্ক মৌসুমে সড়কে মাটি শুকিয়ে ধুলাবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।
উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করলেও বন্ধ হয়নি মাটি কাটা। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মালিয়াট, রাখালগাছী, কোলা, জামাল, নিয়ামতপুর, এলাঙ্গী, ত্রিলোচনপুর ইউনিয়নসহ পৌরসভার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রতিনিয়ত মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এক্সক্যাভেটর (ভেকু) মালিক ও মাটি ব্যবসায়ী এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে, আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহল মাটি বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছেন।
সড়ক সংলগ্ন বাসিন্দা আলাউদ্দিন আলা ও রেজাউল ইসলাম জানান, ‘মাটিবাহী ট্রাক্টর ও যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সড়ক নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাদামাটি ও ধুলাবালিতে চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।’
গণমাধ্যমকর্মী সাবজাল হোসেন ও আরিফ মোল্ল্যা জানান, ‘গত ৬ জুন কালীগঞ্জ-কোলা সড়কে মাটি পরিবহনের কারণে সড়কের ওপর জমে থাকা মাটি বৃষ্টিতে কাদা ও পিচ্ছিল হয়ে পড়ে। এতে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ২০-২৫টি যানবাহন ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার হয়। এসব দুর্ঘটনায় ৩০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। পরে প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় সড়কটি পরিষ্কার করা হয়।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা এসব অনিয়ম ও সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ শাহরিয়ার আকাশ বলেন, ‘পাকা সড়কে বিটুমিনের অন্যতম শত্রু কাদামাটি। নিয়ম না মেনে মাটি পরিবহন করায় সড়কে কাদা জমে রাস্তার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।’
অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের কারণে সড়কের ক্ষতির কথা স্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ জানান, প্রতিনিয়ত তারা মোবাইল কোর্ট ও জরিমানা করছেন। তারপরও রাতে কেউ কেউ মাটি কাটছে বলে শুনেছেন। শিগগিরই তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি।
- বিষয় :
- মাটিকাটা