ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মা সেতু হওয়ার পর সড়কটির খোঁজ নিচ্ছে না কেউ

পদ্মা সেতু হওয়ার পর সড়কটির খোঁজ নিচ্ছে না কেউ
×

চার বছর আগে সংস্কার হয়েছিল মাওয়ার পুরোনো ফেরিঘাট সংযোগ সড়ক। এখন কোনো কর্তৃপক্ষই এটির দায়িত্ব নিচ্ছে না। গতকাল তোলা সমকাল

মিজানুর রহমান ঝিলু, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:৪৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর আগে দক্ষিণাঞ্চলে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছিল মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া ফেরিঘাট। যানবাহন আর যাত্রীসহ বিভিন্ন কাজে যাওয়া মানুষে দিনরাত গমগম করত এলাকাটি। ঘাটে যাওয়ার সংযোগ রাস্তাটিরও তখন গুরুত্ব ছিল, নিয়মিত সংস্কার করা হতো। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগেও সড়কটি সংস্কার করা হয়। তবে সেতু চালুর পর পুরোনো ফেরিঘাটের সড়কের দায়িত্ব নিচ্ছে না সরকারের চারটি সংস্থার কেউ। এতে বেহাল সড়কে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের।
স্থানীয়রা জানান, মাওয়া চৌরাস্তা থেকে পুরোনো ফেরিঘাট পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে আছে। ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগে প্রায় ২০০ মিটার সড়কে ইট বিছিয়ে সাময়িক সংস্কার করা হলেও এরপর আর কোনো স্থায়ী মেরামত হয়নি। দীর্ঘদিনে ইট সরে গিয়ে সড়কের বিভিন্ন স্থানে তৈরি হয়েছে গর্ত ও খানাখন্দ। এতে যানবাহনে চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও পর্যটকরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কর্তৃপক্ষই সড়কটির সংস্কারের দায়িত্ব নিতে চাইছে না। লৌহজং উপজেলা এলজিইডি, সড়ক ও জনপথ (সওজ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ– প্রতিটি সংস্থাই সড়কটি তাদের আওতাধীন নয় বলে জানিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এক যুগ আগেও এই সড়ক দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন ও যাত্রীরা ফেরি পারাপারের জন্য যাতায়াত করতেন। পরে ২০১৪ সালের নভেম্বরে পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য ফেরিঘাট দুই কিলোমিটার দূরের শিমুলিয়ায় স্থানান্তরিত হলে সড়কটির গুরুত্ব কিছুটা কমে যায়। তবে লৌহজংয়ের কান্দিপাড়া, যশলদিয়া, শ্রীনগর উপজেলার কবুতরখোলা, মান্দ্রা, ভাগ্যকুল, বালাসুর, কামারগাঁও ও দোহার উপজেলার মানুষের শহরমুখী যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে এটি এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই সড়কের পাশে রয়েছে মাওয়া বাজার। বাজার ও সড়ক ঘিরে রয়েছে প্রায় তিন শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতা, অটোরিকশা, রিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচল করে। পদ্মা সেতু দেখা ও পদ্মার ইলিশের স্বাদ নিতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের সমাগম ঘটে পুরোনো ঘাট এলাকায়। বেহাল সড়কে ভোগান্তির পাশাপাশি বৃষ্টির সময় ভাঙাচোরা রাস্তার গর্তে পানি জমে থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। সড়কের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে রয়েছে পদ্মার ইলিশের জন্য পরিচিত মাওয়া মৎস্য আড়ত। কান্দিপাড়া এলাকার কয়েকটি রিসোর্টে যাতায়াতের পথও এটি। 
মাওয়া বাজারের ক্রেতা সঞ্জীব খান বলেন, পদ্মা সেতুর পাশে মাওয়া বাজার। এখানকার রাস্তা এত খারাপ ভাবাই যায় না। স্থানীয় অটোরিকশাচালক সুরুজ মিয়া বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে একদিনে ইট বিছানো হয়েছিল। এরপর আর কোনো কাজ হয়নি। আমরা প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন অটোরিকশাচালক এই সড়ক 
দিয়ে চলাচল করি। গর্তের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। কখনও কখনও অটোরিকশা উল্টে যাত্রীরা আহত হন।
লৌহজং উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় থেকে জানানো হয়, এলজিইডির প্রতিটি সড়কের নির্দিষ্ট কোড নম্বর থাকে। এ সড়কে এলজিইডির কোনো কোড নম্বর নেই। তাই সড়কটি এলজিইডির আওতায় নয় এবং তাদের এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ নেই।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের শ্রীনগর কার্যালয়ের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এমএম হানিফ বলেন, রাস্তাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন নয়। বিগত দিনে এটি বিআইডব্লিউটিএ ব্যবহার করেছে। তবে উপর মহলের কোনো নির্দেশনা এলে এবং বাজেটে ব্যয় ধরা হলে সড়ক ও জনপথ বিভাগ মেরামতের ব্যবস্থা করতে পারে।
বিআইডব্লিউটিএর শিমুলিয়া বন্দর কর্মকর্তা নিয়াজ মোহাম্মদ খান বলেন, পুরোনো ফেরিঘাট থাকাকালে সড়কটি আমাদের আওতায় ছিল। ফেরিঘাট শিমুলিয়ায় স্থানান্তরের পর ওই রাস্তা আর আমাদের আওতায় নেই। এখন এটি পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন। তবে পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় বলেন, সেতু কর্তৃপক্ষের আওতায় যতগুলো রাস্তা আছে, সবগুলোই ঠিক আছে।  ওই সড়ক পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন নয়। 
সড়কটি মেদিনীমণ্ডল ইউনিয়নে পড়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল হালিম শেখ বলেন, সড়কটি ৬০-৭০ বছরের পুরোনো। এ সড়কের কোনো কোড নম্বর নেই, ভাবলেই অবাক লাগে। তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব অর্থে এটি সংস্কার করার সামর্থ্য নেই। উপজেলা পরিষদ অর্থ বরাদ্দ দিলে পাকা বা সংস্কার করা সম্ভব।

আরও পড়ুন

×