লক্ষ্মীপুরে শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা
মেহেদী হাসান
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৯:৫৬ | আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ | ১০:১২
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির আবাসিক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানের (১৪) মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। তবে ঘটনার প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
রামগঞ্জ থানার পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে নিহত শিক্ষার্থীর বাবা জিয়া উদ্দিন বাদী হয়ে দায়ের করা এজাহারটি হত্যা মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। মামলায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৯ থেকে ১০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, একটি আইফোন চুরির অভিযোগ তুলে অষ্টম শ্রেণির আবাসিক ছাত্র মেহেদী হাসানের ওপর দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পরে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহতের বাবা জিয়া উদ্দিন বলেন, 'আমার ছেলেকে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার সন্তানের হত্যার বিচার চাই। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।'
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেহেদীর মা বলেন, 'আমার ছেলে সুস্থ অবস্থায় হোস্টেলে গিয়েছিল। ওকে আর জীবিত ফিরে পেলাম না। আমি আমার সন্তানের হত্যাকারীদের বিচার চাই। কোনো মা যেন এভাবে সন্তান হারানোর কষ্ট না পায়।'
এর আগে মঙ্গলবার বিকেলে একাডেমির ছাত্রাবাস থেকে মেহেদী হাসানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিন রাত ৮টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুর চালায়। পরে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বুধবার বিকেলে মেহেদীর মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান নিয়ে থানার সামনে অবস্থান ও বিক্ষোভ করেন স্বজন ও এলাকাবাসী। ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ খন্দকার আবদুল মান্নান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে মেহেদীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, অধ্যক্ষের অপসারণ এবং শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে রামগঞ্জ সরকারি কলেজ গেট এলাকায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে পৌর শহরের চৌরাস্তা এলাকায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা দ্রুত গ্রেপ্তার, সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'নিহত শিক্ষার্থীর বাবা থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।'
- বিষয় :
- লক্ষ্মীপুর
- শিক্ষার্থী
- মৃত্যু