ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

খাবার দিতে দেরি হওয়ায় রেস্তোরাঁয় হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ

খাবার দিতে দেরি হওয়ায় রেস্তোরাঁয় হামলা, ককটেল বিস্ফোরণ
×

রাজশাহীতে একই মালিকের দুই রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। ছবি: সমকাল

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬ | ১৮:৩৯ | আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ | ১৯:২৪

খাবার কেনা কেন্দ্র করে রাজশাহীতে একই মালিকের দুটি রেস্তোরাঁয় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। রমজান আলী নামে এক ব্যক্তির নেতৃত্বে এই হামলা হয় বলে অভিযোগ করেছে রেস্তোরাঁর মালিক পক্ষ। হামলাকারীদের হাতে লাঠি, ছুরি ও রামদাসহ দেশি অস্ত্র দেখা গেছে। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে মতিহার থানার এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে আজ শনিবার রাজশাহীতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ব্যবসায়ীরা।

এরআগে, শুক্রবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকার ‘বাংলা টিফিন’ ও ‘বঙ্গভোজ’ নামের রেস্তোরাঁয় ওই হামলার ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত ৯টার দিকে বিনোদপুরের বাংলা টিফিন হোটেলে খাবার কিনতে আসেন স্থানীয় রমজান আলী। খাবার দিতে সময় বেশি লাগায় হোটেলের এক কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর ৩০ থেকে ৪০ জন ছুরি, চাপাতিসহ দেশি অস্ত্র নিয়ে বাংলা টিফিন ও বঙ্গভোজ হোটেলে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এতে ফয়েজ উদ্দীন নামে পুলিশের এক কনস্টেবল আহত হন। তাকে রাজশাহী বিভাগীয় পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলাকারীরা রমজান আলীর অনুসারী বলে স্থানীয়রা জানান।

হোটেলের মালিক মুর্শেদ সাকিল বলেন, 'রমজান স্থানীয় জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত। খাবার পরিবেশনে দেরি হওয়ায় আমার কর্মচারীকে হুমকি দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে অস্ত্রসহ লোকজন নিয়ে হামলা চালায়।' তিনি বলেন, 'তার হুমকিতে আমি হোটেল খুলতে পারিনি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'

অভিযোগের বিষয়ে রমজান আলী সমকালকে বলেন, 'আমি সেখানে ছিলাম। খাবার কিনতে গেলে এক কর্মচারী খারাপ ব্যবহার করে। এতে আমার প্রতি ভালোবাসায় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে হামলা করে। এটা কাঙ্ক্ষিত নয়। পরে আমি চলে আসি।' তিনি আরও বলেন, 'আমি আগে শিবিরকর্মী ছিলাম। গত বছর আমাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। রাজনীতিতে আমি সক্রিয় নাই। এখন কোনো পার্টি করি না।'

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে (রাকসু) শিবিরের প্যানেল থেকে নির্বাচিত এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, 'রমজান রাবিতে শিবিরের রাজনীতি করতেন। ছাত্রলীগের নির্যাতনে তার ছাত্রত্ব চলে যায়। পরে সাবেক ভিসি নকীব স্যার তার ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেন।'  হোটেলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা একেবারেই স্থানীয় বিষয় এবং এর সঙ্গে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বা ছাত্র শিবিরের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে উল্লেখ করেন এজিএস সালমান।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর জানান, এ ঘটনায় রমজান আলীকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আটকের চেষ্টা চলছে। 

আরও পড়ুন

×