ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা: যা বললেন এমপি মনির

ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা: যা বললেন এমপি মনির
×

মনিরুল হক চৌধুরী ও মুফতি ফয়জুল করীম। ফাইল ছবি।

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ১৬:৫৯

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় সাইবার আইনে মামলা দায়ের করার ৫ দিন পর এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন সদর আসনের বিএনপি দলীয় এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল হক চৌধুরী। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কটুক্তি ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করার অভিযোগে গত শনিবার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর আসামি হলেন নগরীর ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদপুর (উলুরচর) গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে কাদের মিয়াজী (৫০)। 

মামলার বাদী নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও এমপি মনিরুল হক চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে দাবি করেছেন। তবে মহানগর বিএনপি ও যুবদল নেতারা বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় অস্বীকার করায় এ নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

এই বিতর্কের মাঝেই আজ বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে ওই মামলা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিয়েছেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। এতে তিনি উল্লেখ করেন, আমি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে, আমার নির্বাচনী এলাকা সদর দক্ষিণ থানায় একজন চরমোনাই পীরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না এবং কে বা কারা এ মামলা দায়ের করেছেন, সে সম্পর্কেও আমার কোনো জানা নেই। বিষয়টি জানতে পেরে আমি বিব্রত হয়েছি। পরবর্তীতে মামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি আমার নেতাকর্মীদের বাদীর সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিতে এবং মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে অনুরোধ করতে নির্দেশ দিয়েছি। তারা জানিয়েছে বাদি মামলা প্রত্যাহার করতে সম্মত হয়েছেন। সদর দক্ষিণ থানার ওসি, আমার এডভোকেটকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলেছি।

পোস্টে মনিরুল হক আরও বলেন, সংসদে সংঘটিত অনভিপ্রেত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার যে অভিযোগ ছিল, তা আমি সংসদেই যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে লিখিতভাবে উপস্থাপন করেছি। আমি সবসময় আইন, শৃঙ্খলা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার পক্ষে।

এর আগে মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি এবং ইউটিউব চ্যানেলে সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে বিদ্রুপ, কটূক্তি এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডিতে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।

মামলার বদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার বলেন, আমার নেতা মনিরুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে বলেই আমি মামলা করেছিলাম। মামলা প্রত্যাহার করতে বলেছেন আমার নেতা (এমপি)। তাই মামলাটি প্রত্যাহার করতে আজ আদালতে আবেদন করেছি।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রকিবুল ইসলাম বলেন, মামলাটি প্রত্যাহার করা হবে এমন খবর ফেসবুকে দেখেছি। বাদী আজ মামলা প্রত্যাহার করতে আদালতে আবেদন করবেন বলে শুনেছি। আদালতের নির্দেশনা পেলে আমরা পদক্ষেপ নেব।

আরও পড়ুন

×