লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়ে খুন
পাঁচ দিনেও হত্যারহস্যের কিনারা নেই
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৮:০৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে এক নারী ও তাঁর তিন মেয়েকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার পাঁচ দিনেও রহস্যের কুলকিনারা করতে পারেনি পুলিশ। শুরুতে তারা লুটপাটের উদ্দেশে এসে হত্যার ঘটনা হিসেবে ধারণা করছিলেন। তবে গত রোববার বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা অক্ষত উদ্ধারের পর তাদের ধারণা পাল্টে গেছে অনেকটা।
গত বৃহস্পতিবার রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা এলাকার নদীপাড়ের একটি ভাড়া বাসায় কুপিয়ে হত্যা করা হয় শাহিনুর বেগম (৪০), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও ছোট মেয়ে শিফাকে (১০)। এ সময় শাহিনুরের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম তাঁর কর্মস্থলে ছিলেন। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালানোর সময় এলাকাবাসী অন্তর মজুমদারকে আটক করে। উত্তেজিত জনতার পিটুনিতে আহত অবস্থায় লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে সেদিনই তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে রোববার বিকেলে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ অক্ষত অবস্থায় পায়। একই সময়ে ভবনের পাশের সরু ফাঁকা জায়গায় পাওয়া যায় নিহত শাহিনুর বেগম ও তাঁর এক মেয়ের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন। তদন্তকারীদের ধারণা, অন্তর মজুমদার মোবাইল ফোন দুটি নিয়ে বের হলেও মারধরের সময় সেগুলো পড়ে যায়।
উদ্ধার হওয়া ফোনগুলোর ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, নিহত পরিবারের সদস্য ও অভিযুক্ত অন্তরের ব্যবহৃত সব মোবাইল নম্বরের কল রেকর্ড, যোগাযোগের ইতিহাস ও অন্যান্য ডিজিটাল তথ্য পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পূর্বপরিচয়, নিয়মিত যোগাযোগ বা কোনো সম্পর্কের প্রমাণ মেলেনি।
ইতোমধ্যে এ ঘটনায় রানী বেগম ও নাছরিন আক্তার নামে দুই নারী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তদন্তে তাদের দেওয়া তথ্য গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ করছে। তারা ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার আলামত, ফরেনসিক প্রতিবেদন, মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। পাশাপাশি তদন্তকারীরা অন্তরের ব্যক্তিগত জীবন, মাদকাসক্তি, আর্থিক সংকট, মানসিক অবস্থা ও ঘটনার আগের কয়েক দিনের গতিবিধিও খতিয়ে দেখছেন।
পরিচয় লুকিয়ে বাসা ভাড়া
স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, প্রায় দেড় বছর আগে নিজেকে অন্তর মিয়াজী পরিচয় দিয়ে একই ভবনে ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। সে সময় এক নারীকে স্ত্রী পরিচয়ে সঙ্গে রেখেছিলেন। পরবর্তী সময়ে তাঁর পরিচয় নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে ভবন মালিক তাঁকে বাসা ছাড়তে বলেন।
ভবনের মালিক আমির হোসেনের ভাষ্য, অন্তর মিয়াজী নামে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে তাঁর বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন ওই যুবক। তদন্তের স্বার্থে পরিচয়পত্রটি পুলিশের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে আমাদের ধারণা ছিল, অন্তর ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দা নিয়ে বাসায় প্রবেশ করেছিলেন। মাদকের জন্য টাকার প্রয়োজন থেকেই তিনি এ ধরনের অপরাধে জড়াতে পারেন। তবে ঘটনাস্থলে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা অক্ষত অবস্থায় পাওয়ায় বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।’
- বিষয় :
- খুন