ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সাবেক কাউন্সিলর ও তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে জখম

সাবেক কাউন্সিলর ও তাঁর ছেলেকে কুপিয়ে জখম
×

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

পাবনার ঈশ্বরদীতে ‘নাতনির বিচার’ করার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে এনে পৌরসভার সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক নারী কাউন্সিলর ফরিদা খাতুন (৫৭) ও তাঁর ছেলে ফিরোজ হোসেনকে (৩০) ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে এ হামলার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল বুধবার দুপুরে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার কাচারিপাড়া এলাকায় ছাত্তার বোর্ডিংয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত মা-ছেলেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতদের স্বজন ও ফরিদা খাতুনের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন রিপন জানান, ঘটনার সময় মা-ছেলে বাড়িতেই ছিলেন। এ সময় অচেনা এক অটোরিকশাচালক তাদের বাড়িতে এসে ফরিদা খাতুনকে বলেন, ‘আপনার নাতনি আমার মেয়েকে মারধর করেছে। আপনি এসে বিষয়টির বিচার করে যান।’ কথাটি বিশ্বাস করে ফরিদা খাতুন ছেলে ফিরোজ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে অটোরিকশাচালকের পিছু পিছু কাচারিপাড়া এলাকার ছাত্তার বোর্ডিংয়ের সামনে যান।

অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে পৌঁছানোর পর কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই অটোরিকশাচালক তাঁর গাড়ি থেকে একটি হাঁসুয়া বের করে ফরিদা খাতুন ও তাঁর ছেলের ওপর এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন। এতে মা-ছেলে রক্তাক্ত অবস্থায় সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারী দ্রুত অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানান, ফরিদা খাতুনের বাম হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং তাঁর ছেলে ফিরোজ হোসেনের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গভীর জখম রয়েছে। দুজনের শরীরেই একাধিক স্থানে সেলাই দিতে হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাবেরী সাহা বলেন, আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ক্ষতস্থানে সেলাই করা হয়েছে। এক্স-রে ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আঘাতের প্রকৃত অবস্থা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আহত সাবেক কাউন্সিলর ফরিদা খাতুন বলেন, ‘মিথ্যা অজুহাতে আমাকে ও আমার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।’
ঈশ্বরদী থানার ওসি আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×