টানা বৃষ্টিতে বাউফলে অর্ধশত পানের বরজ বিধ্বস্ত
টানা ভারী বর্ষণে অর্ধশত পানের বরজ বিধ্বস্ত। ছবি: সমকাল
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৫:২৯ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৫:৪৭
টানা ভারী বর্ষণে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় অন্তত অর্ধশত পানের বরজ বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে পান চাষের ওপর নির্ভরশীল শতাধিক চাষি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস বরাতে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৮ হেক্টর জমিতে সহস্রাধিক চাষি পানের আবাদ করেছেন। তবে টানা বৃষ্টিতে পৌরসভা, নিজবটকাজল, বটকাজল, মদনপুরা, বিলবিলাস, ধুলিয়া, আদাবাড়িয়া ও কনকদিয়া এলাকার বহু পানের বরজ মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
বিলবিলাস গ্রামের চাষি বেলায়েত খান, জাহাঙ্গীর হোসেন ও জাকির হোসেন জানান, তারা তিন একর বর্গা জমিতে প্রায় ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে চার মাস ধরে পানের বরজ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে।
জাকির বলেন, পানের বরজই তাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। বৃষ্টিতে বরজ ধসে যাওয়ায় এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেলায়েত খান বলেন, ঋণ নিয়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক দিয়ে বরজের পরিচর্যা করেছেন। ভালো ফলনের আশা থাকলেও এখন ঋণ পরিশোধ নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নতুন করে বরজ তৈরি করতেও বিপুল অর্থের প্রয়োজন হবে।
বিলবিলাস গ্রামের ইউপি সদস্য শাহ আলম বলেন, ২০২৪ সালে পান রপ্তানি বন্ধ হওয়ার পর থেকেই পানচাষিরা সংকটে রয়েছেন। তখন বাজারে পানের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকায় নেমে আসে। এবার টানা বর্ষণে বরজ ধসে পড়ায় তাদের লোকসান আরও বেড়েছে।
গোপাল মাঝি ও জুরান হাওলাদার জানান, পানের বরজে সার, মাটি ও অন্যান্য পরিচর্যায় প্রতিদিন শ্রমিকপ্রতি ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা খরচ হয়। বরজ থেকে পান সংগ্রহ ও আটি বাঁধতেও অতিরিক্ত ব্যয় রয়েছে। অথচ আকারভেদে পাইকারি বাজারে প্রতি আটি পান মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠে না। এখন বৃষ্টিতে বরজের ক্ষতির কারণে তারা আরও বড় আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, উপজেলায় ১৮ হেক্টর জমিতে সহস্রাধিক পানচাষি রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বর্তমানে কোনো প্রণোদনার ব্যবস্থা নেই। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে তালিকা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।
- বিষয় :
- ভারী বর্ষণ
- পটুয়াখালী