ঢাকা সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

জলাবদ্ধতা

কুমিল্লার এক কেন্দ্রে ‘সময় বিড়ম্বনায়’ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

কুমিল্লার এক কেন্দ্রে ‘সময় বিড়ম্বনায়’ এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা
×

নৌকা দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রের ভেতরে নেওয়ায় সহায়তা করেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু। ছবি-সমকাল

কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা 

প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৫৩

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সোমবারের পরীক্ষায় ‘সময় বিড়ম্বনার’ মুখে পড়ছে সহস্রাধিক এইচএসসি পরীক্ষার্থী। নগরীতে অতি বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কুমিল্লা নগরীর সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে দেরীতে প্রবেশ করা পরীক্ষার্থীদের অনেকেই এমসিকিউ (বহুনির্বাচনী অভীক্ষা) পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত ২৫ মিনিটের মধ্যে মাত্র ১৫ মিনিট সময় পেয়েছেন। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য ‘বোর্ড কর্তৃপক্ষ ওই কেন্দ্রের সকল পরীক্ষার্থীদের জন্য ৩০ মিনিট সময় অতিরিক্ত দেয়ার নির্দেশ দিলেও পুরো সময় লিখিত (সৃজনশীল) অংশে দেয়ায় পরীক্ষার্থীরা এমসিকিউতে অতিরিক্ত সময় পাননি। 

মহিলা কলেজ কেন্দ্র সূত্রে জানায়, এ কেন্দ্রে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের এক হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। ভবনের একটি কক্ষ ব্যতীত সব কক্ষই ২য় তলা থেকে উপরের অন্যান্য ফ্লোরে। তবে নিচ তলার একটি কক্ষে পানি উঠায় তা উপরের একটি ফ্লোরে নেওয়া হয়। সাড়ে ৯টার দিকে কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, কেউ নৌকায় উঠে, কেউবা কোমর পানি মাড়িয়ে ভিজে কেন্দ্রে প্রবেশ করছে। কলেজ ক্যাম্পাসের পুরোটাই তখন ছিল পানিতে নিমজ্জিত। এ সময় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপুকে নৌকা, ভ্যান ও রিকশা যোগে পরীক্ষার্থীদের ভেতরে নেওয়ায় সহযোগিতা করতে দেখা গেছে। 

এদিকে এ কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেকেই জলাবদ্ধতা মাড়িয়ে ভিজে সকাল ১০টার পরও কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। এরই মধ্যে নির্ধারিত সময়ে এমসিকিউ ওএমআর সিট, খাতা দেওয়া হয়ে গেছে। 

এতে দেরীতে প্রবেশ করা পরীক্ষার্থীরা নাম, রোল, সেট কোড ও রেজিষ্ট্রেশনের বৃত্ত ভরাট, হাজিরার নথিতে ক্রমিক নম্বরের লেখার পর ১৫ মিনিট সময় পেয়েছেন। কেউবা আরও কম সময় পেয়েছেন। এতে কোন পরীক্ষার্থীকেই অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। পরীক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, নির্ধারিত সময়েই এমসিকিউ প্রশ্ন দেয়া এবং শেষ করা হয়। এতে অতিরিক্ত সময় না দেয়ায় খাতার প্রয়োজনীয় বৃত্ত ভরাটের পর অবশিষ্ট ১০/১৫ মিনিটে অর্ধেক প্রশ্নের উত্তর দেয়া সম্ভব হয়নি। যদিও সময় বাড়িয়ে দেয়ার কথা ছিল। পুরো সময় দেয়া হয় সৃজনশীল অংশে, যা দরকারই ছিল না। 

পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহসিন সমকালকে বলেন, কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের ভোগান্তির কথা শুনে সকাল ৯টা থেকে পরীক্ষা শেষ পর্যন্ত বোর্ডের দুই জন কর্মকর্তা কেন্দ্রে উপস্থিত ছিলেন। লিখিত অংশে আধা ঘণ্টা সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সকাল ১০টায়ই এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ ও শেষ করা হয়েছে। তবে যেহেতু অনেকে কেন্দ্রে দেরীতে প্রবেশ করেছে এবং এমসিকিউ অংশের জন্য সময় কম পেয়েছেন। তাই পৃথকভাবে কিছু সময় এমসিকিউতে বাড়িয়ে দিলে এমন বিতর্ক আর হতো না। এ বিষয়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষের পরীক্ষা শুরুর আগেই সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকলে ভালো হতো।

এদিকে সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্র ও আশপাশের সড়কে তীব্র জলাবদ্ধতার কারণে অবশিষ্ট পরীক্ষা গুলো নগরীর ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে নেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি পরীক্ষার্থীদের জানিয়েছে দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র গেটে এ ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করা হয়। অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. শরীফুল ইসলাম সমকালকে বলেন, বোর্ড থেকে দুই কর্মকর্তা কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে গেছেন। অন্তত ৮০ জোড়া বেঞ্চ টেবিল আনা হলে এখানে মহিলা কলেজের সকল পরীক্ষার্থী অবশিষ্ট পরীক্ষা দিতে সমস্যা হবে না। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আহসান পারভেজ বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমকালকে বলেন, বোর্ডের অধীন ৬ জেলায় বৃষ্টি আর জলাবদ্ধতার কারণে বড় কোন সমস্যা হয়নি। শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সকল পরীক্ষার্থীদের জন্য ৩০ মিনিট সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়। বোর্ড চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনেক পরীক্ষার্থী বিলম্বে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। যথাসময়ে এমসিকিউ প্রশ্ন সরবরাহ করা হয়। তাই তাদের অনেকেই সময় কম পেয়েছেন। বর্ধিত সময় শুধু লিখিত অংশে না দিয়ে এমসিকিউ অংশেও কিছুটা দেওয়ার দরকার ছিল। যা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ করতে পারতেন। 

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে প্রাথমিকভাবে এ কেন্দ্র স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে আজকের রাতের মধ্যেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×