বসতঘর মেরামতে সাহায্যের আশায় দুর্গতরা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি সমকাল
সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম)
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
বন্যার পানির তোড়ে বিধবা ছকিনা খাতুনের বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই ঘরে তিন নাতি-নাতনি নিয়ে থাকতেন। পাড়া-প্রতিবেশীদের সাহায্য-সহযোগিতায় তাদের দিন কাটত। এখন বন্যায় আশপাশের সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। কে তাদের সাহায্য করবেন, কোথায় আশ্রয় নেবেন– ভেবে পাচ্ছেন না।
ছকিনা খাতুনের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ঢেমশা ইউনিয়নের উত্তর ঢেমশা গ্রামে। তাঁর স্বামী নৈশপ্রহরী ছিলেন। প্রায় আট বছর আগে মারা যান। একমাত্র মেয়ের মৃত্যু হয় তিন বছর আগে। সেই মেয়ে রেখে গেছেন তিনটি সন্তান। মেহেদি হাসান রিয়াদ (১০), মো. রায়হান (৪) ও রিফাত আকতার (৮)। তারা এখন ছকিনার সঙ্গে থাকে। নাতি-নাতনিদের নিয়ে ঘোর বিপাকে পড়েছেন তিনি।
শুধু ছকিনা নন, আরও অনেক ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এখন সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসন সহায়তার জন্য দিন গুনছেন।
সাম্প্রতিক বন্যায় সাতকানিয়া উপজেলার ৯০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়। পানিবন্দি হয়ে পড়েন চার লাখের মতো মানুষ। বন্যার পানি নেমে গেছে। ভেসে উঠেছে ক্ষতচিহ্ন। স্রোতের টানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই হাজারের বেশি বসতঘর। অসংখ্য বসতঘর এখনও বসবাসের অনুপযোগী। দুর্গতদের কেউ কেউ এখনও আছেন আশ্রয়কেন্দ্রে। কেউ আবার আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
এ উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার একটি হলো এই ঢেমশা ইউনিয়ন। উত্তর ঢেমশা গ্রামের আরেক বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম। বন্যার পানির তোড়ে তাঁর টিন ও বাঁশের বেড়ার বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙা ঘরে মেরামত কীভাবে করবেন– ভেবে কিনারা পাচ্ছেন না।
শহিদুল জানান, তিনি চট্টগ্রাম নগরীতে একটি কাপড়ের দোকানের কর্মী ছিলেন। এখন বেকার। বন্যা তাঁর মাথা গোঁজার ঠাঁইও নষ্ট করে দিয়েছে।
৮ জুলাই শহিদুলের ঘরের ভেতর পানি ঢোকে। সন্তানদের পাঠিয়ে দেন চাচাতো ভাইয়ের ঘরে। তাঁর ঘরে কোমরপানি ওঠে। স্ত্রীকে নিয়ে সেই ঘরে পাঁচ দিন কাটান। চাচাতো ভাইয়েরা যা দিয়েছেন, তাই খেয়ে দিনগুলো পার করেছেন। বন্যার পানি তো নেমে গেল। কিন্তু ঘরটা মেরামত করবেন কী দিয়ে!
উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিম-পূর্বে এ ইউনিয়নের অবস্থান।
সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় টানা বৃষ্টির তৃতীয় দিন থেকে। সেখানে ত্রাণ পৌঁছাতেও নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। পানিতে তলিয়ে যাওয়ার চার দিন পর কিছু ত্রাণ সেখানে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন দুর্গতরা।
ঢেমশা উচ্চ বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে ৮ ও ৯ জুলাই দুই দিনে ১৫ পরিবার আশ্রয় নিয়েছিল। এর মধ্যে ১২ পরিবার চলে গেছে। এখনও সেখানে
রয়ে গেছে তিনটি পরিবার। এর মধ্যে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আহমদ মিয়ার পরিবারও আছে। তিনি একজন বর্গাচাষি। তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে তাঁর।
আহমদ মিয়া জানান, তাঁর টিনের চালা ও বেড়ার ঘরে কোমরপানি ওঠে। এক পর্যায়ে এই স্কুলে আশ্রয় নেন। ৯ দিন ধরে এখানে আছেন। ঘর থেকে পানি নেমে গেলেও বসবাসের উপযোগী হয়ে ওঠেনি।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর জানান, সাতকানিয়ায় প্রাথমিকভাবে করা তালিকা অনুযায়ী দুই হাজার ৩৭৫টি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৭৫ টন চাল ও ১৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। ১৮ হাজার শুকনা খাবারের প্যাকেট, ১০ হাজার টন চাল ও ২০ লাখ টাকার চাহিদা দেওয়া হয়েছে।
- বিষয় :
- বন্যা