ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বছর ঘুরলেও সাজিদের পরিণতির কারণ অজানা

বছর ঘুরলেও সাজিদের পরিণতির কারণ অজানা
×

সাজিদ আব্দুল্লাহ

সাইফুর রহমান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধারের এক বছরেও সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যারহস্যের কিনারা হয়নি। এখনও চিহ্নিত হয়নি তাঁর হত্যাকারীরা। বিচারের দাবিতে দফায় দফায় আন্দোলন হলেও পুলিশি তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সিআইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাজিদের স্বজন ও সহপাঠীরা। তারা ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মামলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিআইডির বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলেছেন।

সাজিদ আবদুল্লাহ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল-কোরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌর এলাকায় আহসান হাবিবুল্লাহ দেলওয়ারের ছেলে। ২০২৫ সালের ১৭ জুলাই বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হলের সামনের পুকুরে পাওয়া যায় তাঁর ভাসমান লাশ। এ ঘটনার ১৬ দিন পর ৩ আগস্ট ভিসেরা প্রতিবেদনে সাজিদকে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয় উঠে আসে। পরদিনই তাঁর বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ দেলওয়ার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ইবি থানায় হত্যা মামলা করে। পরিবারের আবেদনে মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর করা হয়। তবে প্রায় ১০ মাস তদন্ত করেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেনি সিআইডি।

তদন্তে অগ্রগতি না হওয়ার পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতা ও সিআইডি কর্মকর্তাদের উদাসীনতাকেই দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিতে কার্যকর তৎপরতা দেখা যায়নি। এক বছরে সাজিদের হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে না পারা চরম গাফিলতি ছাড়া আর কিছু না। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতির শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করছে।
সাজিদের বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ দেলওয়ার বলেন, ‘এক বছর পূর্ণ হলেও ছেলের হত্যার বিচার পাইনি। তদন্তের কোনো অগ্রগতি নেই। সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও কোনো আপডেট খবর পাই না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গেও যোগাযোগ নেই। নতুন ভিসির সঙ্গে এখনও কথাই হয়নি।’ তিনি সিআইডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবি জানান।

মামলার দায়িত্বে থাকা সিআইডির পরিদর্শক মহব্বত হোসেন সমকালকে বলেন, মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা, কিছু সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ ও একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তদন্ত এখনও চলমান। তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার মতো পর্যায়ে তারা পৌঁছাতে পারেননি, আরও সময় প্রয়োজন। গাফিলতির যে অভিযোগ উঠেছে, এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা শতভাগ আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করছি। একটা রেজাল্ট অবশ্যই আসবে। তবে একটু দেরি হবে। এটাকে আমাদের গাফিলতি বলা হলে সেটা জোরপূর্বক বলা হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ‘সাজিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তো ফল আসবে না। 
আমাদের দরকার তদন্তের অগ্রগতি ও বিচার নিশ্চিত করা। আগের প্রশাসন কি করেছে, 
সেটি তো আর আমি বলতে পারব না। তবে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরই সিআইডির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি ও সেটি অনবরত চলছে। আর আমার নিজে হয়তো সাজিদের পরিবারের সঙ্গে যোগযোগ সম্ভব হয়নি। তবে তাদের সঙ্গে যোগযোগ রাখতে প্রক্টরকে বলেছি। প্রয়োজনে তাদের ক্যাম্পাসে আহ্বানও করেছি। তারা যখনই আসবেন, তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

আরও পড়ুন

×