আদালতে বাবার জবানবন্দি
শাসন করতে গিয়ে লাঠির আঘাতে মেয়ের মৃত্যু, ভয়ে লাশ গুমের চেষ্টা
নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৯ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৯
মা-মেয়ের ঝগড়া চলছিল। মায়ের ওপর মেয়েকে চড়াও হতে দেখে কাঠের লাঠি দিয়ে মেয়েকে আঘাত করেন বাবা। মেয়ে নড়াচড়া করায় সেই আঘাত মাথায় লাগে। সঙ্গে সঙ্গে নিস্তেজ হয়ে পড়ে আরফানা হোসেন নির্জনা। কিছু সময়ের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়। আতংকে মেয়ের লাশ বস্তায় ভরে গুমের চেষ্টা করেন স্বামী-স্ত্রী।
আজ রোববার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে নির্জনার বাবা আলীম হোসেন আকাশ এ তথ্য জানান। খুলনা মহানগর হাকিম-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান জবানবন্দি গ্রহণ করেন। গত শনিবার দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা বাজারের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।
এর আগে গত ১০ জুলাই নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বামী-স্ত্রী দু’জনই বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
গত ৮ জুলাই রাতে নগরীর নিরালা প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নির্জনার পরিচয় শনাক্ত হয়। নির্জনা নগরীর সোনাডাঙ্গা মডেল থানার বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাসিন্দা এবং সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আদালতে তিনি হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (সদর) শফিকুল ইসলাম জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে, ডিভোর্স এবং প্রায়ই পরিবারের অমতে বাড়ির বাইরে অবস্থান করায় মেয়ের ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন তার বাবা। গত ৮ জুলাই সন্ধ্যায় নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসায় এসব বিষয় নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আবারও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শাসন করতে গিয়ে অসাবধানতার বশে লাঠির আঘাতে নির্জনা নিহত হন। ভয়ে এবং আতংকে স্বামী-স্ত্রী মিলে লাশটি গুমের চেষ্টা করেন।
তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বাবা আকাশ অনুতপ্ত। মেয়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি কান্নাকাটি করছেন। একপর্যায়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হন। মামলার দুই আসামির দু’জনে গ্রেপ্তার ও দায় স্বীকার করায় দ্রুত চার্জশিট দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- খুলনা
- হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন
- আদালত
- জবানবন্দি