ঢাকা শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

মাদকের চালান ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার

মাদকের চালান ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে চার পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার
×

সংগৃহীত ছবি

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩১ | আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩৫

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানার চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদকের চালান মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত চার পুলিশ সদস্যকে থানা থেকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার।

টাকার বিনিময়ে মাদকের চালান ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রত্যাহার হওয়া চার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন—হাতীবান্ধা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তুহিন, উপপরিদর্শক (এসআই) রিমন মিয়া, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হাকিম এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত ১৭ জুলাই দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হাতীবান্ধা উপজেলার বোর্ডের হাট বাজারের পূর্ব পাশে এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর বাড়িতে যৌথ অভিযান চালান ওই চার পুলিশ সদস্য। অভিযানে একটি সাদা রঙের প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় উদ্ধার করা আলামত আইনানুযায়ী সরাসরি থানায় না নিয়ে পাশের ভেলাগুড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কয়েকজনের উপস্থিতিতে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রাইভেটকার ও মাদকের পুরো চালানটি ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও স্থানীয়দের মুখ থেকে বিষয়টি জানাজানি হয়। 

ঘটনাটি সামনে আসার পর তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত চার কর্মকর্তাকে হাতীবান্ধা থানা থেকে প্রত্যাহার করে লালমনিরহাট পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া পুরো ঘটনাটির বিস্তারিত অনুসন্ধানে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তবে ওই ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুর ইসলাম বলেন, আমি ঘটনাটি শুনে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলাম এবং সংশ্লিষ্ট সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশকে সরবরাহ করেছি। তবে সিসিটিভি ফুটেজে স্পষ্ট তেমন কিছুই বোঝা যায়নি। জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লুৎফর রহমান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমরা কেবল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক উদ্ধারের জন্য সেখানে অভিযানে গিয়েছিলাম। সেখানে কোনো টাকার লেনদেন হয়নি এবং তল্লাশি করে কোনো মাদকও পাওয়া যায়নি। ওই এলাকার কিছু চিহ্নিত মাদককারবারি পুলিশকে বিতর্কিত করতে আমাদের বিরুদ্ধে এসব মিথ্যা তথ্য প্রচার করছে। 

এদিকে অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে থাকা ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের ইউপি সদস্য শরিফুল ইসলাম জানান, পুলিশ সদস্যরা এতটা অদূরদর্শী নন যে, যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে সেখানে প্রকাশ্যে মাদক ধরে টাকার লেনদেন করবেন। এলাকায় ১০ লাখ, ৭ লাখ বা ৯ লাখ টাকা লেনদেনের যে কথা ছড়িয়ে পড়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি শুধু সেখানে একটি সাদা প্রাইভেটকার এবং একটি মোটরসাইকেল দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেছি; কিন্তু সেখানে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি। এখানে মূলত পুলিশ কর্মকর্তাদের ফাঁসানো হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় মেম্বাররা মাদকের টাকার ভাগ নিয়েছেন বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, সেটিও একদম মিথ্যা।

ভেলাগুড়ি ইউনিয়নের সচিব কল্লোল বলেন, আমি যতটুকু জানি বা শুনেছি, সেখানে সরাসরি মাদক উদ্ধার বা টাকার লেনদেনের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে এলাকার অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কেউ নিশ্চিত করে কিছুই বলতে পারেননি। 

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, প্রাথমিক তথ্যের সত্যতার ভিত্তিতে জেলা পুলিশের নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই অভিযুক্ত ওই চার পুলিশ কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×