ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুদ্ধাপরাধীদের ছবিসম্বলিত বিলবোর্ড টাঙালো জিএস আম্মার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান, সমালোচনা

যুদ্ধাপরাধীদের ছবিসম্বলিত বিলবোর্ড টাঙালো জিএস আম্মার পরিচালিত প্রতিষ্ঠান, সমালোচনা
×

যুদ্ধাপরাধীদের ছবিসম্বলিত বিলবোর্ড। ছবি: সমকাল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:২৯ | আপডেট: ০২ আগস্ট ২০২৬ | ১৯:৪৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্যারিস রোডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দণ্ডিত কয়েকজন ব্যক্তির ছবি সম্বলিত একটি বিলবোর্ড টাঙিয়েছে ‘নোভোকালচার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালককের দায়িত্বে রয়েছেন।

‘জুডিশিয়াল কিলিং’ শিরোনামে প্রদর্শন করা এই বিলবোর্ডটি নিয়ে সমালোচনা করেছেন শিক্ষার্থীদের একাংশ। বিলবোর্ডটিতে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মীর কাসেম আলী, মতিউর রহমান নিজামী, আব্দুল কাদের মোল্লা, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ছবি স্থান পেয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার হয় এবং বিভিন্ন মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এ বিষয়ে শাখা সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতুল বলেন, ‘যেই এ ধরনের উদ্যোগ নিক না কেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কিংবা বাংলাদেশের কোথাও রাজাকারদের কোনো ধরনের স্বাভাবিকীকরণ (নরমালাইজেশন) আমরা মেনে নেব না। যুদ্ধাপরাধের প্রশ্নটি বাংলাদেশের মৌলিক জাতীয় ইস্যু। ২০২৪ সালের আন্দোলন কিংবা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদবিরোধী অবস্থানকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে যুদ্ধাপরাধী মতাদর্শ বা তাদের পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।’

শাখা ছাত্রঅধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, ১৯৭১ সালে আল-বদর ও রাজাকার বাহিনীর চিহ্নিত সদস্যদের আমরা ঘৃণাভরে স্মরণ করি। ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। তাই, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে যুদ্ধাপরাধের মামলায় দণ্ডিত ব্যক্তিদের ছবি প্রদর্শন করা গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘নোভোকালচারের প্রতিষ্ঠাতা রাকসুর সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এখানে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্নও উঠেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।’

শাখা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মিঠু বলেন, ‘দলীয় অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র বিতরণ এবং দলীয় কর্মসূচি পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হচ্ছে—এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে অতীতের অপ্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক ইস্যু জুড়ে দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা আমরা দেখি না। এটি কেবল রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনা সৃষ্টি করার একটি অপচেষ্টা বলে মনে করি। যুদ্ধাপরাধের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়কে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করে উপস্থাপনেরও চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তবে এই বিলবোর্ডের সঙ্গে রাকসুর কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন রাকসুর সহ-সভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। আমার ধারণা, বিলবোর্ডে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। তবে এতে রাকসুর কোনো অর্থ বা সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা নেই।’

রাকসুর জিএস ও নোভোকালচারের পরিচালক সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের বিলবোর্ডের মূল বিষয় ছিল ‘জুডিশিয়াল কিলিং’। অর্থাৎ, রাজনৈতিক প্রভাবে পরিচালিত বিচার ও মৃত্যুদণ্ডের প্রশ্নটি তুলে ধরা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে গুম, খুন, আয়নাঘর, শাপলা হত্যাকাণ্ড এবং বিচারব্যবস্থা নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটেই বিলবোর্ডটি তৈরি করা হয়েছে। সেখানে দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ কয়েকজনের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্দেশ্য কাউকে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া নয়; বরং তাদের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত ছিল কি না তা তুলে ধরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নই। কেউ আমাকে জানায়নি। তবে আমরা বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন

×