ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেত্রকোনা

গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায়, স্থবির স্বাভাবিক জনজীবন

গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায়, স্থবির স্বাভাবিক জনজীবন
×

ছবি: ফাইল

নেত্রকোনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬ | ১২:২৭

টানা ৮-১০ দিন ধরে জাতীয় গ্রিড থেকে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় নেত্রকোনায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জনজীবন। বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ বন্ধ হওয়ার উপক্রম, নেত্রকোনার একমাত্র সিএনজি ফিলিং স্টেশনটি প্রায় অচল।

হোটেল-রেস্তোরাঁ, হাসপাতাল, জেলা কারাগার ও পুলিশ লাইন্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানও পড়েছে সংকটে। তিতাস গ্যাসের আওতাধীন নেত্রকোনায় প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন।

তিতাস গ্যাস অফিসের তথ্যমতে, নেত্রকোনায় প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহক ছাড়াও একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ২৪টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ২৯টি সরকারি প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ রয়েছে। তবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৮-১০ দিন ধরে জেলায় গ্যাসের চাপ শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

গ্যাস না থাকায় বাসাবাড়িতে রান্নার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সদর হাসপাতাল, পুলিশ লাইন্স, নেত্রকোনা কারাগার এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানের রান্না ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

নেত্রকোনার একমাত্র এআর খান পাঠান সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ইঞ্জিনিয়ার বোরহান কবির বলেন, প্রায় এক মাস ধরে কম প্রেসারের সমস্যা থাকলেও ৮-১০ দিন ধরে ইনলেট প্রেসার শূন্য। ফলে কোনো যানবাহনে গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে স্টেশনের বিক্রি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। সংকটে পড়েচে সিএনজিচালিত যানবাহন। 

তিতাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটি দূর হলেই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। কিন্তু নেত্রকোনা ময়মনসিংহ অঞ্চলের শেষ প্রান্ত এবং সুনামগঞ্জ লাগোয়া হওয়ায় এখানে চাহিদা বেশি থাকলেও গ্যাসের চাপ সবচেয়ে কম।

সিএনজিচালিত যানবাহনের চালকরা জানান, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে অনেকেই ময়মনসিংহে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল এলপিজি ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতি ট্রিপে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে হচ্ছে, যা নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই বাগ্‌বিতণ্ডা সৃষ্টি হচ্ছে। তাদের ভাষ্য, গ্যাস সংকটের কারণে আয় কমে যাওয়ায় অনেকেই গাড়ির কিস্তি পরিশোধ করতে পারছেন না। পরিবার নিয়ে তাদের কষ্টে দিন কাটছে। সাধারণ যাত্রীরা জানান, নির্দিষ্ট গন্তব্যে বেশি ভাড়া দিয়েই প্রতিনিয়ত যাতায়াত করতে হচ্ছে, কিছুই বলার নেই।

তিতাস গ্যাসের নেত্রকোনা জেলার উপব্যবস্থাপক গোলাম মর্তুজা জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় নেত্রকোনায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এটি কোনো স্থানীয় সমস্যা নয়, জাতীয় পর্যায়ের একটি সাময়িক কারিগরি সংকট। সমস্যার সমাধানে দেশীয় প্রকৌশলীদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমিও নেত্রকোনার বাসিন্দা এবং তিতাসের একজন গ্রাহক। মানুষের দুর্ভোগ আমি উপলব্ধি করতে পারছি। আশা করছি আগামী চার-পাঁচ দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

আরও পড়ুন

×