ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

উত্তেজনার পর বেরোবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে ছাত্রদল-শিবির

উত্তেজনার পর বেরোবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে ছাত্রদল-শিবির
×

ছবি- সমকাল

বেরোবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪৯ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৬ | ২২:১২

দুই দিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) ক্যাম্পাসে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের।

বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনন্দ শোভাযাত্রা, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন।

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেন।

গত সোমবার জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত কয়েকজন নেতার ছবি প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

সংঘর্ষের পর উভয় সংগঠন একই স্থানে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ঘোষণা দিলে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাজহাট থানার কাছে ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করেছিল।

তবে সেই উত্তেজনার মধ্যেই জাতীয় কর্মসূচিতে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের একসঙ্গে অংশ নিতে দেখা যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী। তাঁদের মতে, মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, ছাত্রদলের কোনো কর্মসূচিতে আমরা কখনো বাধা দিইনি। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। আশা করি, তারা ক্যাম্পাসে লেখা ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’ স্লোগানটি মুছে দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, জুলাই আমাদের যেভাবে ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্য ধরে রেখেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। মতবিরোধ ও সহিংসতা পরিহার করতে হবে। তা না হলে আবারও ফ্যাসিবাদীরা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐক্যের ফলেই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। আশা করি আর যেন কোন স্বৈরাচার  না আসতে পারে। সেজন্য তরুণরা যেভাবে একত্রিত হয়ে কাজ করছে এখনো তাদের মধ্যে যে সৌভাগ্যপূর্ণ পরিবেশ, সেটা আজকেও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় দেখিয়ে দিয়েছে। আমরা সর্বস্তরের শিক্ষার্থী, ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সবাই একসঙ্গে বর্ণাঢ্য র্যা লি করেছি। এছাড়াও আমরা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করলাম।

আরও পড়ুন

×