ঢাকা বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬

কক্সবাজার শহর

সরকারি পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ

সরকারি পাহাড় কেটে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
×

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বসতি -সমকাল

 কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:০০ | আপডেট: ১২ আগস্ট ২০২৬ | ০৯:৩২

| প্রিন্ট সংস্করণ

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় জেলা কারাগারের পশ্চিম সীমানা দেয়ালের পাশ দিয়ে উত্তর দিকে ঢুকতেই দেখা গেছে, পাহাড় কেটে একের পর এক নির্মাণ করা হচ্ছে বসতি। গত এক সপ্তাহে নির্মাণ করা হয়েছে পাঁচটি ঘর। নির্মিত এসব ঘরে কোনো লোকজন না থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এসব ঘরে লোকজনের আনাগোনা দেখা যায় বলে জানান স্থানীয়রা।

পাহাড় কেটে টিনের ঘেরা দিয়ে নির্মিত একটি ঘরে গিয়ে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ নারী বসে আছেন। সে নিজেকে রাবেয়া খাতুন দাবি করে বলেন, এ বাড়ির মালিক আবুল কাশেম। তিনি আবুল কাশেমের পাহারাদার হিসেবে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, আবুল কাশেম, শাহেদ, ফারুক আবুল কালামসহ স্থানীয় প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ একটি চক্র ১ নম্বর খাস খতিয়ানে প্রায় দুই একর সরকারি জমি দখল করে পাহাড় কেটে এসব স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য অভিযুক্ত আবুল কাশেমকে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কক্সবাজারভিত্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির (ইয়েস) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক বলেন, জেলার প্রত্যন্ত এলাকার কথা নাই বললাম, বিশেষ করে কলাতলী এলাকায় যেভাবে হঠাৎ পাহাড় কাটা বেড়ে গেছে, তা খুবই উদ্বেগজনক। তিনি বলেন, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় পাহাড়ধসে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে অনেকই। এর পরও খোদ কক্সবাজার শহরে পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ভয়াবহ মাশুল দিতে হবে সাধারণ মানুষকে। এসব পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এর জন্য পুরো দায়ী থাকবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, অভিযোগ পেয়ে ওই এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পাহাড় কাটার সত্যতা পাওয়ায় একটি মামলা করেছে। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে চারজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি দেখানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে যাওয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল লতিফ জনি বলেন, ওই এলাকায় বেশকিছু গাছ ও পাহাড় কাটার সত্যতা পেয়েছি। এসব পাহাড় কেটে বেশ কয়েকটি বসতিও গড়ে তোলা হয়েছে। মামলার পরও যদি ওই এলাকায় কেউ পাহাড় কাটে, তাহলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনে আবারও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ইমরান হোসাইন সজীব বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

১ নম্বর খাস খতিয়ানের সরকারি জমি অবৈধভাবে দখল করলে সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং অবৈধ স্থাপনা সরকারের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত হয়। অন্যদিকে সরকারি বা ব্যক্তিমালিকানাধীন পাহাড় কাটা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধ, যার জন্য প্রথমবার সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানা এবং পুনরাবৃত্তি করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আরও পড়ুন

×