বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ
পরীক্ষা দিতে গিয়ে নিখোঁজ, ৩ দিন পর খাদে মিলল শিক্ষার্থীর মরদেহ
হাফিজুর রহমান
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৩৬ | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ | ১৪:৪০
ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বাস-ট্রাক সংঘর্ষের তিন দিন পর এক পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। বুধবার সকালে উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় মাঝকান্দি-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খাদে তার মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী।
নিহত ছাত্রের নাম হাফিজুর রহমান (২৮)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলার সদর ইউনিয়নের পিংগুলিয়া গ্রামের মৃত কাওসার মোল্যার ছেলে এবং বোয়ালমারী ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ছাত্র। দুর্ঘটনার দিন অর্থাৎ গত সোমবার তিনি পরীক্ষা দিতে ফরিদপুর যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার সাতৈর ইউনিয়নের পাইকহাটি এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের সাবস্টেশনের সামনে যাত্রীবাহী লোকাল বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষে বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায় এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়। পরদিন বাসটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালালেও তখন কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়নি। বুধবার সকালে দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি যেখানে পড়ে ছিল, সেই খাদে পাট জাগ দিতে আসা এক কৃষক পানিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। স্বজনরা এসে মরদেহটি হাফিজুর রহমানের বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের চাচা মোশারেফ মোল্যা বলেন, আমার ভাতিজা সোমবার সকালে বাড়ি থেকে পরীক্ষা দিতে বের হয়েছিল। এরপর আর বাড়িতে ফেরেনি। এ ঘটনায় কাশিয়ানী থানায় একটি জিডিও করা হয়েছিল। আজ খবর পাই, বাস দুর্ঘটনার ওই খাদে একটি লাশ ভেসে উঠেছে। এসে দেখি লাশটি আমার ভাতিজার।
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার বাস ও ট্রাকের মধ্যে সংঘর্ষের পর যাত্রীবাহী বাসটি খাদে পড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হাফিজুর রহমান বাসের নিচে পানিতে চাপা পড়ে ছিলেন। বুধবার তার মরদেহ ভেসে উঠলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার করা হয়। নিহতের স্বজনরা মরদেহ শনাক্ত করেছেন। বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।