ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খুলনায় মাদক ও আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জোড়া খুন, সন্ত্রাসী সাইফিসহ গ্রেপ্তার ৩

খুলনায় মাদক ও আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্বে জোড়া খুন, সন্ত্রাসী সাইফিসহ গ্রেপ্তার ৩
×

জোড়া খুনের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা ব্যুরো

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৪০ | আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ | ২১:৫১

খুলনার লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় জোড়া খুনের ঘটনায় পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী আলামিন হাসান ওরফে সাইফিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গতকাল শুক্রবার রাতে গোপালগঞ্জের মাঝিগাতি বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সামনে থেকে সাইফি ও এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, গুলি ও দুটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়। এ সময় সাগর নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাবের দাবি, মাদক বিক্রি ও আধিপত্য বিস্তার এবং হত্যার প্রতিশোধ নিতে একই এলাকায় তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। একটি হত্যার আগে ভিডিও কল করে প্রতিপক্ষকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের দৃশ্য দেখানো হয়।

গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার হরিণটানা আশিবিঘা এলাকায় মঞ্জুরুল ইসলাম (২৩) নামের এক যুবককে হত্যা করা হয়। এর তিন ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলের ৫০০ গজের মধ্যে মো. নাজমুল (১৯) নামের আরেক যুবককে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের তথ্য জানাতে আজ শনিবার র‌্যাব-৬ সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ের আয়োজন করা হয়। সেখানে র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, ঘটনার পর ছায়া তদন্তের একপর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে খুলনার টুটপাড়া এলাকার আলোচিত সন্ত্রাসী আলামিন হাসান ওরফে সাইফি ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এরপর সাইফি ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। 

জিজ্ঞাসাবাদে সাইফি জানায়, নিহত নাজমুল তাদের গ্রুপের সদস্য ছিল। অন্যদিকে নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম অপর একটি গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। সাইফির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের দলের সদস্য নাজমুলকে রফিক নামের এক ব্যক্তি আটক করে ভিডিও কলে রেখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের দৃশ্য তাদের দেখায়। এর প্রতিশোধ নিতে সাইফি ও তার দলের প্রায় ১৫-১৬ জন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হরিণটানার আশিবিঘা এলাকায় যায়। সেখানে মঞ্জুরুল ইসলামকে সামনে পেয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে এবং গুলি করে হত্যা করে। এই সংবাদ পেয়ে প্রতিপক্ষ গ্রুপও রাত সাড়ে ৮টার দিকে নাজমুলকে হত্যা করে।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, টুটপাড়া, হরিণটানা ও লবণচরা এলাকার মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী রনি চৌধুরী ওরফে গ্রেনেড বাবু। টুটপাড়ার গ্রেনেড বাবুর সহযোগী হিসেবে কাজ করে সাইফি। সে কাউয়া মেরাজের সহযোগী হিসেবেও কাজ করে। সাইফির বিরুদ্ধে হত্যাসহ চারটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। 

তিনি আরও বলেন, লবণচরা এলাকায় রফিক বাহিনী নামে আরেকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ মাদকের কারবার করতো। এ নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায় দ্বন্দ্ব-সংঘাত লেগে থাকতো। তার জেরেই পরপর দুটি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

নগরীর লবণচরা থানার ওসি সৈয়দ মোশারেফ হোসেন সমকালকে বলেন, হত্যাকাণ্ড দুটির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানানো হবে। তখন জড়িত অন্যদের নাম পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

×