সরকারি ভাতার কথা বলে অর্থ আদায়, ইউপি সদস্যসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ
ম্যাপ
হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৪৮ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:১০
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগ এক ইউপি সদস্য ও দুই ভাই-বোনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি ভাতা দেওয়ার কথা বলে জনপ্রতি দেড় হাজার থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। টাকা দেওয়ার পর একদিকে যেমন কোনো ভাতা মেলেনি, অন্যদিকে টাকা ফেরত চেয়েও পাচ্ছেন না তারা।
অভিযুক্ত ভাই-বোন হলেন, উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের পূর্ব আমঝোল গ্রামের মোছা. মহিলা খাতুন ও মো. শামসুল আলম। এ দুই ভাইবোন ভাতা করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সময়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। টাকা নেওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন শামসুল।
এছাড়া নওদাবাস ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য গোপাল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমনকি ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে এক প্রতিবন্ধী নারীর ভাতার টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এ বিষয়ে ওই ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে ২৬ জনের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
গোতামারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী হাবিবুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘সরকার আমাকে ১০ হাজার টাকার ভাতা দেবে, এ কথা বলে আমার কাছ থেকে মহিলা খাতুন ছয় হাজার টাকা নেন। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর পার হলেও ভাতার কোনো ব্যবস্থা হয়নি। এখন টাকা ফেরত চাইলে ওই নারী ও তার ভাই টালবাহানা করছেন।’
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ভাতার কার্ডের আশায় টাকা দেওয়া ফজিলা খাতুন নামের আরেক নারী বলেন, ‘ড. ইউনূস গরিবদের ১০ হাজার টাকা অনুদান দেবেন—এমন কথা বলে আমার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু আজ পর্যন্ত ভাতাও পাইনি, আমার কষ্টের তিন হাজার টাকাও ফেরত দেয়নি।’
নওদাবাস গ্রামের ফরিদা বেগম অভিযোগ করেন, ‘দুস্থ মাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে গোপাল মেম্বার আমার কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নিয়েছেন। অনেক দিন হলেও কোনো কার্ড পাইনি।’
একই গ্রামের জোহরা বেগম বলেন, ‘আমার বোন ভারসাম্যহীন রেজিয়ার বিধবা ভাতার সিম কার্ডটি এক বছর আগে গোপাল মেম্বার নিয়ে গেছেন। সেই ভাতার টাকা মেম্বার তুলে আত্মসাৎ করে আসছেন। সিম কার্ডটি চাইলে তিনি আমাকে ধমক দেন।’
এদিকে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য গোপাল চন্দ্র রায় বলেন, ‘ভাই, কাজ করতে সমস্যা হয়। কিছুটা সত্যতা আছে, একেবারে যে মিথ্যা তা না। হাজার হাজার লোকের কাজ করছি, দুই-একটা সমস্যা হইছে। তবে তার মধ্যে কেউ কেউ টাকা পায় নাই বলে এখন অভিযোগ করেছে। আমার করার কিছু নেই।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে শামসুল আলম বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি টাকা নিয়েছি। বিভিন্নজন বিভিন্ন অঙ্কের টাকা দিয়েছে। সমাজসেবা অফিসের কাজ হয়ে গেলে বিকাশে টাকা ঢুকে যাবে।’
অভিযুক্ত মহিলা খাতুনও টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি এক সপ্তাহের মধ্যে কার্ড করে দেব।’
সার্বিক বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপজন মিত্র বলেন, ‘গোপাল মেম্বারের বিরুদ্ধে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির নাম করে অনেকের কাছে টাকা নেওয়ার লিখিত অভিযোগ পেয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরদিকে ‘ভাইবোন চক্রের’ বিরুদ্ধেও মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেটি নিয়েও কাজ করছি।’
- বিষয় :
- দুর্নীতি
- লালমনিরহাট