ফরিদপুরে হত্যা মামলায় ৪ জনের যাবজ্জীবন
ছবি: সমকাল
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৪৭ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৫:৫৮
ফরিদপুর শিশু পার্কের অস্থায়ী কর্মচারী হাসান শেখ (৩৫) হত্যা মামলায় চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া মামলার অপর ধারায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের সাত বছরের কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. শরীফ উদ্দীন এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় চার আসামির মধ্যে তিনজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পলাতক আসামি ফরিদা বেগমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। পরে সাজাপ্রাপ্ত তিন আসামিকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে পাঠানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- শাহজাহান মাতুব্বর (৩৬), ফারুক শেখ (৩৫), চান্দু শেখ (২২) ও ফরিদা বেগম (৩০)। তাদের সবার বাড়ি ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ঝাউখোলা গ্রামে। ফরিদা বেগম পলাতক রয়েছেন।
আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, হাসান শেখ ফরিদপুর শিশু পার্কে অস্থায়ী চাকরির পাশাপাশি কৃষিকাজ করতেন। ২০১৮ সালের ৯ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রতিবেশী শাহজাহান কাকা ডেকেছেন বলে বাড়ি থেকে বের হন তিনি। সারারাত বাড়ি না ফেরায় সকালে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের চার দিন পর ঝাউখোলা এলাকার একটি আখখেত থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় হাসানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ইমান উদ্দিন কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার চার-পাঁচ মাস আগে হাসানের সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েক যুবকের বিরোধ হয়। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশ বৈঠকে হাসানকে মারধরের ঘটনায় তাদের শাস্তি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার ক্ষোভ থেকেই হাসানকে রাতে ডেকে নিয়ে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়।
স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী শাহ মো. আজিজুর রহমান বিকু জানান, হাসান শেখ হত্যা মামলায় দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে আদালত এ রায় দিয়েছেন।