২ কেজির ইলিশ বিক্রি হলো ৭ হাজার ২০০ টাকায়
ছবি: সমকাল
কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৪:৫০
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ২ কেজি ১০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ ৭ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে কুয়াকাটার মাছের আড়তে নিলামে মাছটি বিক্রি হয়। মাছটির কেজিপ্রতি দাম ওঠে ৩ হাজার ৬২৫ টাকা।
মাছটি কিনেছেন কুয়াকাটা মা মনি ফিশের ম্যানেজার মিজান। তিনি জানান, নিলামের মাধ্যমে মাছটি কিনেছেন। এটি শরীয়তপুরে এক প্রবাসীর ভাইয়ের বাড়িতে পাঠানো হবে।
জানা গেছে, জেলে শহরাফ গাজী মঙ্গলবার পায়রা বন্দরের কাছে পাইপ বয়া এলাকায় গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ইলিশটি পান। প্রায় ১০ বছর ধরে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছেন তিনি। অন্যান্য মাছের সঙ্গে জালে বড় ইলিশটি উঠে আসে।
শহরাফ গাজী বলেন, মাছটি নিলামে মণপ্রতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। কেজিপ্রতি দাম পড়েছে ৩ হাজার ৬২৫ টাকা।
স্থানীয় বাসিন্দা জামাল ঘরামী বলেন, নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা কেজি দরে ইলিশ কেনা কঠিন। আগে বছরে অন্তত একবার ইলিশ খাওয়া গেলেও এখন সেটি অনেকের কাছে স্বপ্নের মতো।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রাজীব সরকার বলেন, ছোট ইলিশ বেশি ধরা, নদীর পানিপ্রবাহ কমে যাওয়া, বাঁধ ও স্লুইসগেটের কারণে ইলিশের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়া, অবৈধ জাল এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রমের ঘাটতির কারণে বড় ইলিশ কমে যাচ্ছে। এ ছাড়া পানি দূষণ, প্ল্যাঙ্কটনের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততার পরিবর্তনও ইলিশের প্রজনন ও খাদ্য সংগ্রহে প্রভাব ফেলছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, বড় ইলিশ ধরা পড়া ভালো খবর। এটি মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সুফল হতে পারে। বড় ইলিশে চর্বি, ওমেগা-৩ ও বিভিন্ন ভিটামিন বেশি থাকে, যা হৃদ্যন্ত্র, চোখ ও মস্তিষ্কের জন্য উপকারী। বড় ফাঁসের জাল ব্যবহার করা হলে আরও বড় ইলিশ ধরা পড়তে পারে।