ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বগুড়ায় ডা. শফিকুর রহমান

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না
×

বগুড়া মহানগরের মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ছবি: সমকাল

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৯:১৪

বগুড়ায় ১১ দলের পথসভায় জামায়াতের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকারের কাছে দেওয়া জনগণের পক্ষে আমরা যে ৮ দফা দাবি দিয়েছি—দাবি না মানলে প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে। আমরা জনগণের দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছি, দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরব না।

আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় বগুড়া মহানগরের মাটিডালি বিমান মোড়ের পথসভায় এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। বিকেলের দিকে পথসভাটি বড় জনসভায় পরিণত হয়। বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহম্মেদ, খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুর রশিদ, জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, এনসিপির সাধারণ সম্পাদক আখতার হোসেন এমপি, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মূখ্য সমন্বয়খ হাসনাত আব্দুলল্লাহ এমপি, জামায়াত নেতা আজহারুল ইসলাম এমপি প্রমুখ।

আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকতে দলের নেতাকর্মী ও জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার ভোটের আগে বলেছিল, সব দাবি মেনে নিবে। শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার ক্ষমতায় বসার পর সব ওয়াদা ভুলে গেছে। আমরা গত ৭ মাস দেখলাম, সরকার জনগণের রায় বাস্তবায়ন করছে না। আমরা জনগণকে ওয়াদা দিয়েছিলাম, জনগণের রায় বাস্তবায়ন করবো। তাই, মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছি। জুলাই অভ্যুত্থানের কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। 

মা-বোনদের এ আন্দোলনের শরীক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আপনারা আন্দোলনে নামলে দাবি আদায়ের আন্দোলনের আরও জোরদার হবে, সরকার দাবি বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলেন, এ সরকার জনগণের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। বিদ্যুৎ, গ্যাস নেই— অথচ বিদ্যুতের বিল দ্বিগুণ আসছে। এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী। তার সময়ে সবচেয়ে বেশি আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটছে। তার এ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকার যোগ্যতা নেই। সরকার বলেছিল, ক্ষমতায় বসলে দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে, এক কোটি যুবককে চাকরি দিবে। কিন্তু সরকার ক্ষমতা পেয়ে সব ভুলে গেছে দুর্নীতি চাঁদাবাজে ছেয়ে গেছে।

এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেন, জনগণ এ দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হ্যাঁ ভোট দিয়েছিল। কিন্তু সরকার জনগণের সে রায় মানছে না। আমরা জীবন দিয়ে হলেও সরকারকে এ রায় মানতে বাধ্য করবো।

কর্নেল অলি আহম্মেদ বলেন, চাঁদাবাজ, দখলবাজ, দুর্নীতি বেড়েছে। ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া এসব বন্ধ করা সম্ভব নয়।

মাওলানা মামুনুর রশিদ বলেন, আট দফা দাবি না মানা পর্যন্ত সরকারের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। যত তাড়াতাড়ি দাবি মানবে; ততই সরকারের জন্য মঙ্গল। জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পারওয়ার বলেন, সরকার দাবি অবশ্যই মানবে, তবে পানি ঘোলা করে।

পরে ঢাকা থেকে বিশাল গাড়িবহর নিয়ে আসা লংমার্চটি বগুড়া থেকে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

আরও পড়ুন

×