টাকা দিয়েও মেলেনি বিদ্যুৎ ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরের চেষ্টা
চিলমারী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ০৮:১২
| প্রিন্ট সংস্করণ
নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় টাকা জমা দেওয়ার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ পাননি কুড়িগ্রামের চিলমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাভুক্ত চরহরিপুর এলাকার ১৪টি পরিবার। তিন মাস আগে গ্রাহকদের নামে মিটার এসে পৌঁছালেও সংযোগ না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা এবং সংযোগের বিষয়ে কথা বলতে গেলে ফাঁকা স্ট্যাম্পে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে জোনাল অফিসের ডিজিএমের বিরুদ্ধে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও গ্রাহক হয়রানির প্রতিবাদে এবং দ্রুত সংযোগের দাবিতে গতকাল সোমবার চিলমারী প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. ইউনুছ আলী।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চর হরিপুর এলাকার ১৪টি পরিবার ডিপোজিট লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে প্রায় এক বছর আগে সরকারি নিয়ম মেনে সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। লাইন নির্মাণ ও মিটার জামানত বাবদ মোট ৬৬ হাজার ৭০০ টাকা জমা দেওয়া হয়। কিন্তু গত তিন মাস ধরে মিটার এসে চিলমারী অফিসে পড়ে থাকলেও অজ্ঞাত কারণে গ্রাহকদের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) ও সহকারী জেনারেল ম্যানেজারের (এজিএম) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো ফল হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সংযোগ দেওয়ার বিষয়ে জোনাল অফিসে কথা বলতে গেলে চিলমারী জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. ফকরুদ্দীন তাদের কাছে একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর চান। ফাঁকা স্ট্যাম্পে কেন স্বাক্ষর দিতে হবে–এর কোনো সন্তোষজনক জবাব তারা পাননি। উল্টো এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে গ্রাহকদের নানা আইনি ভয়ভীতি দেখানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনুছ আলী আরও অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাঁর রাইস মিলের একক ফেজ মিটারটি নষ্ট হওয়ার পর তিন ফেজ সংযোগের জন্য আবেদন করেও দেড় মাস ধরে সংযোগ পাননি। যার ফলে তাঁর মিলের কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। অথচ একই এলাকায় অন্য একটি রাইস মিলে নিয়মবহির্ভূতভাবে সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
টাকা জমা দেওয়ার পরও এক বছর ধরে বিদ্যুৎ না পাওয়ার ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউনুছ আলী বলেন, ‘মিটার এসে পড়ে থাকার পরও কেন সংযোগ মিলছে না, তার স্পষ্ট জবাব চাই। আমরা সুষ্ঠু তদন্তসাপেক্ষে হয়রানির প্রতিকার ও দ্রুত সংযোগের দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে চিলমারী জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. ফকরুদ্দীন বলেন, ‘ওই এলাকায় সংযোগকে কেন্দ্র করে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ ওঠায় তদন্তের স্বার্থে সংযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। অতিরিক্ত লোডের কারণে রাইস মিলের থ্রি-ফেজ সংযোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. শামিম পারভেজ জানান, কেন এত দিন ধরে সংযোগ আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী এলাকার বাসিন্দা মো. কামরুজ্জামান, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. রেজাউল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলীসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
- বিষয় :
- টাকা