ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড

ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে শিক্ষকের ৫ বছরের কারাদণ্ড
×
×

ফাইল ছবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | ১৮:১১

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে গোলাম কবির (৫৪) নামের এক শিক্ষককে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

সোমবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. গোলাম কবির উপজেলার ছত্রাজিতপুর (কাঠালিয়াপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তিনি ছত্রাজিতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শারীরিক ও স্বাস্থ্য বিষয়ক শিক্ষক ছিলেন।

আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২১ আগস্ট দশম শ্রেণির এক ছাত্রী জীববিজ্ঞানের বই চাইলে শিক্ষক গোলাম কবির তাঁকে ২৩ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিদ্যালয়ে আসতে বলেন। কথামতো ছাত্রীটি ওই দিন বিদ্যালয়ে এলে শিক্ষক তাঁকে স্কুল শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের অফিস কক্ষে নিয়ে যান। পরে ভেতরের দরজা-জানালা বন্ধ করে দিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন এবং জোর করে জড়িয়ে ধরে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের চেষ্টা চালান।

ঘটনাটি বুঝতে পেরে স্থানীয় উৎসুক জনতা অফিস কক্ষের গ্লাস ভেঙে ফেলেন। এ সময় ভিকটিম নিজেকে রক্ষায় বাথরুমে লুকিয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে হাতেনাতে আটক করে। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষককে বরখাস্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-সোনামসজিদ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। পরদিন ২৪ আগস্ট ভিকটিমের চাচা বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০২০)-এর ১০ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ রায় দেন। মামলায় বাদীপক্ষে আইনজীবী আব্দুস সালাম এবং বিবাদীপক্ষে আইনজীবী নাজমুল আজম শুনানি করেন।

রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুস সালাম সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের অনৈতিক আচরণ শিক্ষা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এমন শাস্তির ফলে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষক যেন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এই আচরণ করার সাহস না পান, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

তবে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী নাজমুল আজম বলেন, ‘মামলায় ৯ ধারা অর্থাৎ ধর্ষণ চেষ্টা প্রমাণে প্রসিকিউশন ব্যর্থ হয়েছে। যার কারণে কেবল ১০ ধারায় সাজার রায় এসেছে। আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করব।’

আরও পড়ুন

×