ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামে সেমিনার

প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ শতাংশই আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, বেশি আক্রান্ত নারী 

প্রাপ্তবয়স্কদের ৩০ শতাংশই আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, বেশি আক্রান্ত নারী 
×
×

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উপলক্ষে র‌্যালি

চট্টগ্রাম ব্যুরো

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১৩:১৭

দেশে ১৮ বছর বা তার বেশি প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর প্রায় ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ধরনের মাস্কুলোস্কেলেটাল বা আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় ভুগছেন। তাদের মধ্যে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। আর্থ্রাইটিস কেবল সামান্য জয়েন্ট ব্যথা বা অস্বস্তির বিষয় নয়; এটি আক্রান্ত রোগীদের প্রায় ২৫ শতাংশের ক্ষেত্রে নানা শারীরিক প্রতিবন্ধকতারও সৃষ্টি করে।

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সোমবার সকালে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ক্যাম্পাসে বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। এ বছর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘আসুন স্বপ্ন পূরণ করি’।

সেমিনারে জানানো হয়, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৭১ কোটি মানুষ বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস ও মাস্কুলোস্কেলেটাল সমস্যায় আক্রান্ত। বাংলাদেশেও আর্থ্রাইটিস আশঙ্কাজনক জনস্বাস্থ্য ও আর্থ-সামাজিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। রোগটির কারণে আক্রান্ত রোগী বছরের কোনো না কোনো সময় সম্পূর্ণ কর্মক্ষমতা হারান। একজন কর্মক্ষম মানুষ যখন কাজ করার ক্ষমতা হারান, তখন কেবল তার আয়ই বন্ধ হয় না, বরং তার ভবিষ্যৎ জীবনের অনেক সুন্দর স্বপ্নও থমকে যায়। এ কারণে রোগীকে নতুন করে নানা শারীরিক জটিলতার সম্মুখীনও হতে হয়।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আরমান। বাত ও আর্থ্রাইটিস রোগের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং ফিজিক্যাল থেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আর্থ্রাইটিস কেবল বয়স্কদের রোগ নয়, সচেতনতার অভাবে তরুণ সমাজও এতে আক্রান্ত হতে পারে। সময়মতো সঠিক ডায়াগনোসিস ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপি পেলে রোগী স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন।  

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, ‘আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অক্ষমতা দূর করে কার্যক্ষম করে তোলাই চিকিৎসকদের মূল লক্ষ্য। আধুনিক চিকিৎসা ও ফিজিক্যাল রিহ্যাবিলিটেশনের মাধ্যমে রোগীরা যেন তাদের দৈনন্দিন জীবনে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’  

সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মুসলিম উদ্দিন বলেন, ‘চিকিৎসা শিক্ষার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টিতে আমাদের মেডিকেল কলেজ কাজ করে যাচ্ছে। আজকের এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারের মাধ্যমে তরুণ চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা আর্থ্রাইটিসের আধুনিক চিকিৎসা সংক্রান্ত নতুন জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন, যা ভবিষ্যতে রোগীদের চিকিৎসায় বড় ভূমিকা রাখবে।’

অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের প্রধান ডা. শফিউল করিম মো. ইলিয়াস, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. ফেরদৌস, অর্থোপেডিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. সাইফুদ্দীন রোকন। সেমিনার সঞ্চালনা করেন মেডিসিন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ড. সিদরাতুল মুনতাহা শশী। পরে একটি র‌্যালি বের করা হয়।

সেমিনারে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। আলোচনা শেষে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে চিকিৎসকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন বিশেষজ্ঞরা। 

আরও পড়ুন

×