ভেড়ামারায় পূজার আগে শ্মশান ঘাট পেল দাস সম্প্রদায়
প্রায় এক বিঘা খাসজমি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দাস সম্প্রদায়ের লোকদের বুঝিয়ে দেন ইউএনও মো. আমিরুল আরাফাত
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ | ১৭:১৬
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় দুর্গাপূজার আগেই শ্মশান ঘাটের জায়গা বুঝে পেয়েছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী দাস সম্প্রদায়ের লোকজন। একমাত্র শ্মশান ঘাটটি নদী ভাঙনে বিলীন হওয়ার পর প্রায় এক বছর ধরে তাদের মরদেহ দাহ বা মাটিচাপা দেওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। বৃহস্পতিবার বিকেলে এক বিঘা খাসজমি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দাস সম্প্রদায়ের লোকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দল নিয়ে বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর মৌজায় শ্মশানের নির্দিষ্ট জায়গাটি বুঝিয়ে দেন ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আমিরুল আরাফাত।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সূত্রে জানা যায়, বাহাদুরপুর ইউনিয়নের আরকান্দি মাধবপুরে অবস্থিত তাদের একমাত্র শ্মশান ঘাট গত বছর পদ্মা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়ে যায়। এই ইউনিয়নের ঠাকুর দৌলতপুর এলাকায় দাস সম্প্রদায়ের প্রায় ৩৫-৪০টি পরিবারের বসবাস। তারা আগেও কয়েকবার শ্মশান ঘাটের জন্য আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বাধার সৃষ্টি হয়।
শ্মশান বিলীন হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। নতুন ইউএনও যোগদানের পর দুই মাস আগে তারা আবার আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সহায়তায় অবশেষে তাদের জমির ব্যবস্থা হয়। বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর মৌজায় প্রায় এক বিঘা খাসজমি স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দাস সম্প্রদায়ের লোকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা সুধীর দাস বলেন, ‘গত এক বছরে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার বিষয় ছিল শ্মশান ঘাট নিয়ে। আমাদের কেউ মারা গেলে তাকে মাটিচাপা দেওয়ার মতো এক টুকরো জমিও এই পৃথিবীতে ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘পূজার আগে উপজেলা প্রশাসন শ্মশানের ব্যবস্থা করায় আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভাগ্য ভালো, গত এক বছরে আমাদের কেউ মারা যায়নি।’
ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিরুল আরাফাত জানান, ‘দুই মাস আগে দাস সম্প্রদায়ের শ্মশান ঘাট নেই জেনে তখন থেকেই উপজেলা প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছি। জেলা প্রশাসকও সাহায্য করেছেন। সৃষ্টিকর্তার এই জমিনে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল থাকবে না—এটা হতে পারে না।’
ভেড়ামারা উপজেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি দলকে সঙ্গে নিয়ে শ্মশানের জায়গাটি বুঝিয়ে দেন ইউএনও মো.আমিরুল আরাফাত