ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

আসামি হয়ে পাঁচ মাস বাড়িছাড়া, ফিরে দেখেন সব লুট হয়ে গেছে

আসামি হয়ে পাঁচ মাস বাড়িছাড়া, ফিরে দেখেন সব লুট হয়ে গেছে
×
×

ছবি: সংগৃহীত

সদরপুর (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২৩:৫২

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বাসিন্দা কাজী সিরাজুল ইসলাম (৫৮) মারা যান গত ২৯ মে। তার বাড়ি উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চরচাঁদপুর কাজী ডাঙ্গী গ্রামে। এ ঘটনায় কয়েক স্বজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন স্ত্রী সালমা আক্তার (৪০)। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বাড়ি ছাড়েন তারা। পরদিনই পুলিশ বাড়িটি তালাবদ্ধ করে দেয়। আইনি জটিলতা শেষে গত শুক্রবার পরিবারটি বাড়ি ফিরে দেখেন, তাদের ঘরবাড়ি সব তছনছ। লুটে নেওয়া হয়েছে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র। সব মিলিয়ে তাদের ৫০ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে।

মামলায় সালমা আক্তার আসামি করেছিলেন তার স্বামী কাজী সিরাজুল ইসলামের ভাতিজা কাজী তুষার মাহমুদ (৩৫), তার স্ত্রী নাফিসা হক (২৫), তার ভাই কাজী সুমন (৪১), তার স্ত্রী সুইটি আক্তার (৩৭) ও তাদের মা ডলি আক্তারকে (৬৫)। তাদের ভাষ্য, সিরাজুল ইসলামের মৃত্যু স্বাভাবিক হলেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের হয়রানি করা হয়েছে। মামলা করার ইন্ধন দিয়েছেন তুষারের ফুফাতো ভাই সবুজ শিকদার (৪২), জাহিদ খান (৪০) ও চাচাতো ভাই কাজী মাসুদ রানা (৩৩)। তাদের নেতৃত্বেই গত ৬ জুন বাড়িতে লুটপাট চালানো হয়।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, মামলায় আসামি হওয়ার পর হয়রানির আশঙ্কায় তারা অন্য জায়গায় চলে যান। ৩০ মে সদরপুর থানার তৎকালীন ওসি মো. আব্দুল আল মামুন শাহের নির্দেশে বাড়িতে তালা দেওয়া হয়। আইনি লড়াই চালিয়ে প্রায় পাঁচ মাস পর তারা স্থায়ী জামিন পেয়েছেন। গত শুক্রবার সদরপুর থানা-পুলিশের একটি দল তাদের বাড়িতে যায়। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তালা খুলে ভেতরে যান তারা। এ সময় বিভিন্ন কক্ষের মালপত্র এলোমেলো দেখতে পান তারা। এমনকি খুঁজে পাননি সোনার গয়না, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র।

কাজী তুষার মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের বাড়ি থেকে আনুমানিক ৪৫-৫০ লাখ টাকার মালপত্র লুট করা হয়েছে। এ ঘটনার নেতৃত্ব দেন ফুফাতো ভাই সবুজ শিকদার, জাহিদ খান এবং চাচাতো ভাই কাজী মাসুদ রানা, ইউনুস কাজী ও ইমন কাজীসহ অজ্ঞাতপরিচয় ভাড়াটে লোকেরা।’ হামলাকারীরা ছাদের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, মূল্যবান মালপত্র লুটের পাশাপাশি ফ্রিজে রাখা প্রায় ৯২ কেজি কোরবানির গরুর মাংস, পানির টিউবওয়েল, চাষের কালোজিরা, ব্যাংকের চেক, দামি কাপড়চোপড়, জমির সব দলিলপত্র ও শিক্ষাজীবনের সব সনদপত্র নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া পুকুরের মাছ ধরে নেন তারা। গাছপালা কেটে নষ্ট করা হয়েছে।

তার ভাই কাজী সুমন বলেন, ‘আমাদের চাচা কাজী সিরাজুল ইসলাম স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও তার মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে জেনেছি। সেই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আমাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।’

৬ জুন চালানো লুটপাটের প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী ওবায়দুর কাজী (৪৫) বলেন, ‘আমরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেও পারিনি। সবার হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল। তারা প্রকাশ্যেই এসব করেছেন।’

আরেক বাসিন্দা আলমগীর (৩৫) বলেন, দিনদুপুরে অনেক লোক একসঙ্গে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। কলাবাগানের ধরন্ত কলাগাছ কেটে ফেলা হয়েছে, জাল টেনে পুকুরের মাছ ধরে নিয়ে গেছে। লোকসংখ্যা বেশি থাকায় ও তাদের হাতে অস্ত্র থাকায় তারা বাধা দেওয়ার সাহস পাননি।

বক্তব্যের জন্য সবুজ শিকদার ও তার পক্ষের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। সদরপুর থানার উপপরিদর্শক মো. আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য, বাড়িটি তালাবদ্ধ করার সময় সবকিছু ঠিকঠাক ছিল। শুক্রবার গিয়ে বিভিন্ন কক্ষের আসবাবপত্র এলোমেলো পেয়েছেন। মালিকপক্ষ লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত করবেন।

আরও পড়ুন

×