ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ভক্তি আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে জমেছে শারদীয় দুর্গোৎসব

ভক্তি আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে জমেছে শারদীয় দুর্গোৎসব
×
×

ছবি-সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪৯

কেউ দেবী প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠেছেন আড্ডায়। আবার কারও ব্যস্ততা মণ্ডপের সাজসজ্জা ঘিরে ভিডিও তৈরিতে। এরই মধ্যে মাইকে ভেসে আসে মন্ত্রপাঠের ধ্বনি। শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলির প্রস্তুতি। ছবি তোলা থামিয়ে তখন সকলেই দাঁড়ান প্রার্থনায়। ধর্মীয় আচারে অংশ নিচ্ছেন তরুণ-তরুণীরাও।
     
রাজধানীর পূজামণ্ডপগুলোতে এভাবেই ভক্তি, পারিবারিক বন্ধন আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব। গতকাল বনানী, মৌচাক, রমনা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা যায়, উৎসবের আমেজে যোগ হয়েছে নানা মাত্রা।     

বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে এবার মণ্ডপের মূল ভাবনা ‘জলজ’। জলকে জীবন ও সৃষ্টির উৎস হিসেবে তুলে ধরতে বাঁশ, বেত, পাট ও প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ঢেউ, জলপ্রপাত ও জলাশয়ের আবহ। পদ্মফুলের আদলে নির্মিত কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা, পেছনে শঙ্খের অনুষঙ্গ। শিল্পী পার্থপ্রতিম সাহা এবং স্থপতি অমিতি কুণ্ডুর পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে নির্মিত এ মণ্ডপে ধর্মীয় ভাবনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা।     

সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরেও পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ভক্তদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ব্যস্ত সড়ক ও বিপণিবিতানের কাছাকাছি এ মন্দিরে বিভিন্ন বয়সী মানুষ আসছেন প্রতিমা দর্শন ও প্রার্থনা করতে। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জায় মন্দির প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবের আবহ।     

মাঝবয়সী অনর্ব দত্তকে দেখা গেল, মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে দেবী প্রতিমার সামনে ছবি তুলছেন। তাঁর স্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় পূজার মুহূর্তগুলো ছবি ও ভিডিও করে পাঠাচ্ছেন তাঁকে।     

অনর্ব বলেন, ‘আমার স্ত্রী দেশের বাইরে আছেন। তাই যতটা সম্ভব ছবি তুলে ও ভিডিও করে তাঁকে পাঠাই। ফেসবুকেও ছবি দিই। সবার সঙ্গে পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে ভালো লাগে।’    

রমনা কালী মন্দিরের পূজা প্রাঙ্গণে বসেছে সপ্তাহব্যাপী মেলা। আলোকসজ্জায় সাজানো মেলা ঘুরে পুকুরপাড়ে দেখা যায়, তরুণদের আড্ডা, চা খাওয়া আর ছবি তোলার ব্যস্ততা।     

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘উৎসব তো উৎসবই। বন্ধুদের সঙ্গে এ রকম প্রাণখোলা আড্ডা শুধু ঈদ আর পূজাতেই হয়।’    

রামপুরা-হাতিরঝিল সংলগ্ন পশ্চিম রামপুরার শ্রীশ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরেও পূজা উপলক্ষে জড়ো হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। পূজার আনুষ্ঠানিকতা শেষে কেউ হাতিরঝিলের পাড়ে ছবি তুলছেন, কেউ বন্ধুদের নিয়ে কাছাকাছি কফিশপে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও মন্ত্রোচ্চারণের পাশাপাশি চলছে উৎসবের আনন্দ আয়োজন। 

মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে মন্দিরে ঘুরতে এসেছেন জয়ীতা মজুমদার। তিনি বলেন, ‘পূজার সময় বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে ঘুরতে ভালো লাগে। প্রতিমা দেখি, ছবি তুলি, রিলসও তৈরি করি। তবে অঞ্জলি দেওয়া ও পরিবারের সঙ্গে পূজায় আসার আনন্দ আলাদা। আমার কাছে পূজা মানে শুধু ঘোরাঘুরি নয়, সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়া।’    

বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেঘলা সেনের কাছেও পূজা মানে বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর বিশেষ উপলক্ষ। তাঁর ভাষ্য, ‘পূজার সময় বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করার আলাদা আনন্দ আছে। সবাই একসঙ্গে সাজগোজ করে বের হই। পছন্দের মণ্ডপে ছবি তুলি, দেবী মায়ের ছবিটা আরও একটু সুন্দর ভাবে নিজের ক্যামেরায় তোলার চেষ্টা করি, আবার পরিবারের সঙ্গেও পূজামণ্ডপে যাই। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করা আর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো-দুটোই আমার কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।’    

ধানমন্ডি ও মিরপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপেও স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষ ভিড় করছেন। শিশুদের নিয়ে প্রতিমা দর্শন, পরিচিতজনদের সঙ্গে দেখা কিংবা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সন্ধ্যায় মণ্ডপ ঘুরে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে নানা বয়সী মানুষের মধ্যে। পূজার দিনগুলো ব্যস্ততার মধ্যে কিছুটা বিরতি এনে দিয়েছে।    

কাল মহাষ্টমী। রাজধানীর মণ্ডপে মণ্ডপে পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি কাল থেকে পূজার ছুটি শুরু হওয়ায় অনেকে প্রস্তুতি নিচ্ছেন বাড়ি ফেরার। সৌরভ মন্ডল জানান, ‘ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে পূজা উদযাপন করতে বাড়ি যাবো। তার আগে বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি করে, আড্ডা দিচ্ছি। আবার ফিরে তো সেই রুটিন লাইফ কাটাতে হবে।’

আরও পড়ুন

×