ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসি

যশোরে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

ইংরেজিতে ফেল ৫৫ শতাংশ

যশোরে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫
×
×

ছবি: সমকাল

যশোর অফিস

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৩০ | আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৩৯

যশোর শিক্ষা বোর্ডে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫—দুটিই কমেছে। এ বছর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। গত বছর এই হার ছিল ৫০ দশমিক ৫২ শতাংশ। এ বছর মোট ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৫ হাজার ৯৯৫ শিক্ষার্থী। 

তবে বোর্ড কর্তৃপক্ষের দাবি, সামগ্রিক ফলাফল সন্তোষজনক। তাদের মতে, এবার ফলাফলে কোনো বিপর্যয় ঘটেনি, বরং শিক্ষার্থীদের সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে।

যশোর শিক্ষাবোর্ডের তথ্যমতে, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৫৭০টি কলেজের ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। যার মধ্যে পাস করেছে ৫০ হাজার ৬৬৮ জন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন পরীক্ষার্থী। মানবিক বিভাগ থেকে ৩০ হাজার ১৯১ জন ও বাণিজ্য বিভাগ থেকে ৫ হাজার ৩১০ জন পরীক্ষার্থী পাস করেছে। 

জিপিএ-৫ পাওয়াদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ছেলে ১ হাজার ১৭ জন ও মেয়ে ৮৪১ জন, মানবিক বিভাগে ছেলে ২৬৮ জন ও মেয়ে ৮৯৭ জন এবং বাণিজ্য বিভাগে ছেলে ৭৩ জন ও মেয়ে ১৩২ জন।

এ ছাড়া এ বছর শতভাগ পাস করেছে এমন প্রতিষ্ঠান মাত্র তিনটি। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ৫টি। একজনও পাস করেনি এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১৬টি। গত বছর এর সংখ্যা ছিল ২০টি।

বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আবদুল মতিন বলেন, ফল বিপর্যয় হয়নি, সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে। আমরা মূলত কোয়ালিটি নিশ্চিত করতে কাজ করছি। তবে ইংরেজিসহ কয়েকটি বিষয়ে পাসের হার কম হওয়ার কারণ উদ্‌ঘাটন ও সমস্যা সমাধানে কাজ করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, অকৃতকার্যদের পুনঃপরীক্ষা গ্রহণের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তারা আগামীকাল থেকে সাত দিনের মধ্যে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন।

ইংরেজির ধাক্কায় ‘ফল বিপর্যয়’
ইংরেজিতে বেশি শিক্ষার্থী ফেল করায় এ বছরও যশোর শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে অবনতি হয়েছে। প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজিতে ফেল করেছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা দুটোই কমেছে।

২০২৬ সালে যশোর বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫০ দশমিক ২০ শতাংশ। সে বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৫ হাজার ৯৯৫ জন। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার ৫ দশমিক ২৮ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২ হাজার ৭৬৭ জন।

বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং উচ্চতর গণিত বিষয়ে বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।

যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মতিন এসব তথ্য জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম হোসেন আলী।

এবারের ফলাফলের চিত্র তুলে ধরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আবদুল মতিন জানান, ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫, আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪ ও উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১। এই তিন বিষয়ে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।

সচিব প্রফেসর ড. মো. আবদুল মতিন বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্য বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজির ক্লাস নেন, আবার আইসিটির বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া নকলমুক্ত, সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি। এসব কারণে সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পড়াশোনা, শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে যথাযথ পাঠদান এবং অভিভাবকদের সচেতনতা ও তদারকি জরুরি।

১৬ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি, শতভাগ পাস ৩টিতে
যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীন ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে শতভাগ পাসের সাফল্য অর্জন করেছে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আবদুল মতিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শতভাগ ফেল করা ১৬টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল সাতক্ষীরার এ. কে. ফজলুল হক এমসিএ কলেজে। প্রতিষ্ঠানটি থেকে ৪৯ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে একজনও পাস করতে পারেনি। নড়াইলের লোহাগড়ার মাকরাইল করিম খালেক সোলাইমান ইনস্টিটিউট থেকে ৪৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সবাই ফেল করেছে।

এ ছাড়া খুলনার কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৭ জন, ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ থেকে ১৯ জন, মাগুরার বুজরুক শ্রীকুণ্ডি কলেজ থেকে ১৫ জন এবং খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করেনি।

শূন্য পাসের তালিকায় আরও রয়েছে খুলনার ইনডিপেনডেন্স আইডিয়াল কলেজ থেকে ১১ জন, যশোরের মণিরামপুরের সবুজ পল্লী কলেজ থেকে ৭ জন, কুষ্টিয়ার হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ থেকে ৮ জন, খুলনার মডেল মহিলা কলেজ থেকে ৩ জন, সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ থেকে ৩ জন, মাগুরার গোপীনাথপুর এম. এ. খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২ জন, খুলনার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির থেকে ৩ জন, কুষ্টিয়ার জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ থেকে ১ জন, মেহেরপুরের মোরকা জাগরণ কলেজ থেকে ১ জন এবং খুলনার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস থেকে ১ জন।

অন্যদিকে, শতভাগ পাসের তালিকায় রয়েছে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ থেকে ৪৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই পাস করেছে। খুলনার খালিশপুরের নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ৬১ জন এবং চুয়াডাঙ্গার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৩ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করেছে।

আরও পড়ুন

×