সাজেকে জেএসএস-ইউপিডিএফের গোলাগুলি, এলাকায় আতঙ্ক
সাজেকের মাচলং এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলেছেন আন্দোলনকারীরা
রাঙামাটি অফিস
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ১৬:৪৪
রাঙামাটির সাজেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও কজোইছড়ি এলাকায় দুইপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি চলছে। এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। তবে এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম কলাবুনিয়া ও কজোইছড়ি এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেএসএস (সন্তু লারমা) ও ইউপিডিএফ (প্রসীত খীসা) সদস্যদের মধ্যে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাজেকের মাচলং এলাকার দুর্গম অরণ্যের কলাবুনিয়া এলাকায় জেএসএস ও ইউপিডিএফের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে অনির্দিষ্টকালের সাজেক সড়ক অবরোধের দশম দিন শনিবার পালিত হয়েছে। অবরোধের কারণে সড়কে কোনো যানবাহন চলাচল করেনি। ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধ চলাকালে কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, সন্তু লারমা গ্রুপের জেএসএস সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন অনির্দিষ্টকালের জন্য সড়ক অবরোধের ডাক দেয়।
সাজেকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত সোমবার উজোবাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেন খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বৈঠকে আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি মেনে নেয় প্রশাসন। তবে বাকি একটি দাবি নিয়ে মতবিরোধ থাকায় কোনো সমঝোতা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়।