বুড়িগঙ্গা দূষণ: কেরানীগঞ্জে ১০ কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন
ছবি-সমকাল
কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬ | ১৭:৫২
বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ রোধে কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে ১০টি অবৈধ ওয়াশিং ও ডাইং কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কারখানাগুলো পরিচালনা এবং বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) ছাড়া তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার অভিযোগে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জের কালিগঞ্জ-আগানগর এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট শাখার পরিচালক মাহবুব জামিলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে ঢাকা জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, ডিপিডিসি ও স্থানীয় সরকার কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানায়, অভিযানে চিহ্নিত ১০টি কারখানার কোনোটিরই পরিবেশগত ও অবস্থানগত ছাড়পত্র নেই। কারখানাগুলো ইটিপি ছাড়াই তরল বর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলছিল।
অভিযান শেষে মাহবুব জামিল বলেন, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও ধলেশ্বরী নদী দূষণের অন্যতম কারণ অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা শিল্পকারখানা। নদীগুলো দূষণমুক্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত দেড় মাস ধরে শ্যামপুর এলাকা থেকে অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নভেম্বর থেকে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কয়েকটি কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ আগেও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে মালিকরা নতুন বা ভিন্ন নামে আবার সংযোগ নিয়ে কারখানা চালু করেন।
মাহবুব জামিল আরও বলেন, এসব কারখানার অনেকগুলো ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত। আশপাশে রয়েছে শিশু ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ফলে এগুলো জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
তিনি জানান, বন্ধ করে দেওয়া ১০টি প্রতিষ্ঠানের মালিকদের নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্য সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোকে দেওয়া হবে। যাতে তারা পুনরায় অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে না পারেন। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও কেউ বেআইনিভাবে কারখানা চালু রাখলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
- বিষয় :
- পোশাক কারখানা