বিপ্লবীদের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সংরক্ষণের দাবি
ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২১ | ১০:৫৪
চট্টগ্রামে নানা আয়োজনে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ মাস্টারদা সূর্য সেনের ৮৭তম ফাঁসি দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার নগরের জেএম সেন হলে সূর্য সেনের আবক্ষ মূর্তিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনের পক্ষে কর্মকর্তারা, বাসদ (মার্পবাদী), বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বিপ্লবী তারকেশ্বর দস্তিদার স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, চট্টগ্রাম বিপ্লব ও বিপ্লবী স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন।
এছাড়া চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক ফাঁসির মঞ্চের পাশে মাস্টারদার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কারা কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ কারাবন্দিরা। এ সময় বিপ্লবীদের স্মৃতিবিজড়িত স্থান সংরক্ষণে যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন নেতারা বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত যাত্রামোহন সেনগুপ্তের ঐতিহাসিক বাড়িও দখলের চেষ্টা চলছে। এটি নিঃসন্দেহে আমাদের ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি ও প্রগতিশীল চেতনার ওপর আঘাত। অবিলম্বে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে ভবনটি অধিগ্রহণ করে সংরক্ষণ করা হোক।
সভায় ইতিহাস রক্ষা এবং মাস্টারদা সূর্য সেন, তারকেশ্বর দস্তিদার, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কল্পনা দত্তসহ বিপ্লবের মহানায়কদের স্মরণে বন্দর নগরের প্রধান সড়কগুলোর নামকরণের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি রিপায়ন বড়ূয়ার সভাপতিত্বে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল শিকদার, টুটন দাশ, রাশিদুল সামির ও মিটুন বিশ্বাস।
সভায় বাসদ নেতারা বলেন, আজ যখন সর্বাত্মক সংকটের ঘোর অন্ধকার দেশের আকাশে, দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি-মূল্যবোধ সবকিছুতে পচন ধরেছে, তখন সূর্য সেনের মহৎ চরিত্র ও সংগ্রাম আমাদের পথ দেখায়। পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদী শোষণ-শাসন থেকে মুক্তির লড়াইয়ে মাস্টারদা সূর্য সেন বিরাট প্রেরণা হয়ে থাকবেন।
নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজী বলেন, চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের ৯০ বছর পেরিয়ে গেছে। এত দীর্ঘ সময়েও যুব বিদ্রোহের স্মৃতিবিজড়িত স্থান, বিপ্লবীদের বাড়িঘর এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সংরক্ষণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় সেগুলো এখন বেদখল হয়ে গেছে। বারবার আশ্বাস দিয়েও সংশ্নিষ্টরা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেনি। এই দায়িত্বহীনতা ও অব্যস্থাপনার কারণে প্রীতিলতার আত্মাহুতি স্মৃতিবিজড়িত তৎকালীন ইউরোপিয়ান ক্লাবটি এখনও জাদুঘর করা হয়নি। মাস্টারদা সূর্য সেনের নামে চট্টগ্রামে কোনো স্থপনা নেই। এমনকি যাত্রামোহন সেনগুপ্ত ও দেশপ্রিয় যতীন্দ্রমোহন সেনগুপ্তের বাড়িটি দখল ও ভাংচুরের মতো ন্যক্কারজনক ঘটনাও ঘটে গেছে। এখনই উদ্যোগ না নিলে এ শহরে যুব বিদ্রোহের কোনো স্মৃতিচিহ্নই আর অবশিষ্ট থাকবে না।