ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নৌ ধর্মঘটে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে অচলাবস্থা, যাত্রীদের দুর্ভোগ

নৌ ধর্মঘটে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে অচলাবস্থা, যাত্রীদের দুর্ভোগ
×

ঘাট লঞ্চশূন্য, অপেক্ষায় যাত্রীরা- সমকাল

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | ০৩:৫০ | আপডেট: ৩০ নভেম্বর ২০১৯ | ০৪:৩০

নৌ ধর্মঘটে অচল হয়ে পড়েছে চাঁদপুরের লঞ্চঘাট। শুক্রবার রাত ১২টার পর চাঁদপুর থেকে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, শরীয়তপুরসহ সব রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চাঁদপুর ঘাট থেকে যে ৮/১০টি বড় লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল সেগুলোর একটিও যায়নি। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এই রুটে চলাচলকারী সাধারণ যাত্রীরা। যাত্রীরা লঞ্চ না পেয়ে অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার কেউ কেউ বাসযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন।

নিয়োগপত্র ও খাবার ভাতা দেওয়াসহ ১১ দফা দাবিতে শুক্রবার রাত ১২টা থেকে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এ ধর্মঘটের ডাক দেয়। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাই মাসেও কর্মবিরতি পালন করেন শ্রমিকরা।

অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা নৌ ধর্মঘটে দুর্ভোগের কথা জানিয়ে লক্ষ্মীপুর থেকে আসা যাত্রী সাইফুল বলেন, আমি ঢাকায় চিকিৎসার জন্য যাব। কিন্তু চাঁদপুর লঞ্চঘাটে এসে দেখি লঞ্চ চলাচল বন্ধ। এখন অসুস্থ অবস্থায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

ঢাকা-চাঁদপুর রুটে চলাচলকারী বোগদাদীয়া লঞ্চের মালিক প্রতিনিধি বিপ্লব সরকার বলেন, লঞ্চের স্টাফ নেই। যে কারণে চাঁদপুর থেকে কোনো লঞ্চ ছেড়ে যায়নি। তবে সকালে ঢাকা থেকে চাঁদপুরের উদ্দেশে ছেড়ে এসেছে বোগদাদীয়া এবং সোনার তরী নামের লঞ্চ দু’টি।

চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, সকাল সাড়ে ৮টা থেকে লঞ্চ চলাচল বন্ধ। সুকানি-মাস্টার-ড্রাইভারসহ লঞ্চের কোনো স্টাফ নেই। সবাই পালিয়ে গেছে। মালিক পক্ষ লঞ্চ ছাড়ার উদ্যোগ নিলেও স্টাফ ছাড়া লঞ্চ চলবে না।

এদিকে চাঁদপুর নৌ থানার ওসি আবু তাহের ও লঞ্চের এক মালিক প্রতিনিধি জানান, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সোনার তরী লঞ্চটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে এবং বিকেল পাঁচটায় বোগদাদীয়া কোম্পানির একটা লঞ্চ ছেড়ে যাবে।

ধর্মঘটের ভেতরেও ঢাকা থেকে চাঁদপুরে পৌঁছায় বোগদাদিয়া কোম্পানির একটি লঞ্চ- সমকাল

এদিকে শ্রমিক নেতা ও রফ রফ লঞ্চের মাস্টার মো. হারুন বলেন, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে। মালিক পক্ষ জোর করে যে ২/১টি লঞ্চ  চলাচ্ছে সেগুলোতে মূল শ্রমিক তথা মাস্টার-শুকানিসহ কোনো দক্ষ নৌকর্মী নেই।

তিনি বলেন, নিয়োগপত্র, পরিচয়পত্র, পিএফ ফান্ডসহ আমরা যে ১১ দফা দাবি করেছি সেগুলো কোনো অযৌক্তিক দাবি না। তা ছাড়া সেগুলো বাস্তবায়ন করতে সরকারই ২০১৬ সালে মালিকপক্ষকে বলে দিয়েছে। তাহলে সেগুলো তারা মানছেন না কেন? তিনি যোগ করেন, আমরা ইচ্ছাকৃত যাত্রীদের কষ্ট দিতে চাই না।

আরও পড়ুন

×