বিদেশিকে ভয় দেখিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত দিলেন এসআই
অভিযুক্ত এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস
নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:৩০
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে বেড়াতে আসা আরব আমিরাতের নাগরিক ও ব্যবসায়ী আলী আহম্মদ আবদুল্লা শেখ এবং তার এদেশীয় দুই কর্মীকে ভয় দেখিয়ে আদায় করা টাকা ফেরত দিয়েছেন কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার হওয়া উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) শিশির কুমার বিশ্বাস।
গত সোমবার রাতে দুবাই প্রবাসী ফাতেমা বেগমের অনুপুস্থিতিতে তার স্বজন মো. ইলিয়াছের কাছে ১২ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসেন শিশির। এ সময় তিনি তার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর দায়ের করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য ইলিয়াছকে শাসিয়ে আসেন। এ ঘটনায় ফাতেমা বেগম বুধবার রাতে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী মো. আবদুর রহিম বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে গত সোমবার রাত ৯টার দিকে ফাতেমা বেগমের অনুপস্থিতিতে তার বোনের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তার শ্বশুর মো. ইলিয়াছকে এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস মামলার ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া ১২ হাজার টাকা ফেরতসহ আরো অতিরিক্ত ২০ হাজার টাকা দিতে চাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ সময় বৃদ্ধ ইলিয়াছ টাকা রাখতে না চাইলে শিশির কুমার বিশ্বাস টেবিলের ওপর ১২ হাজার টাকা রেখে চলে যান এবং যাওয়ার সময় ‘অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে অভিযোগকারী প্রবাসী ফাতেমা বেগম ও তার ভাইদের অবস্থা ভালো হবে না’ বলে হুমকি দিয়ে আসেন। ওই সময় ফাতেমা বেগম তার ভিসার বিষয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী প্রবাসী ফাতেমা বেগম আরও উল্লেখ করেন, এসআই শিশির কুমার বিশ্বাস ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া ১২ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে আসলেও তার কয়েকজন সহযোগী অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য ফাতেমাকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন।
ফাতেমা বেগম অভিযুক্ত এসআই শিশির কুমার বিশ্বাসসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা অভিযোগটি প্রত্যাহার না করার প্রত্যয় ব্যক্ত বলেন, তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কাজী মো. আবদুর রহিম শিশিরের বিরুদ্ধে প্রবাসী ফাতেমা বেগমের আরও একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হবে।
উল্লেখ্য, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফাতেমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে আরব আমিরাতের ব্যবসায়ী আলী আহম্মদ আবদুল্লাহ শেখের (৬০) অধীনে চাকরি করে আসছেন। একইভাবে তার দুই ভাই শহিদুল ইসলাম বাবলু ও দেলোয়ার আনসারসহ বেশ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন ওই মালিকের (কফিল) দুবাইয়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। গত ৩ নভেম্বর আরব আমিরাতের নাগরিক আলী আহম্মদ শেখ তাদের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর তিনি তার থাকার সুবিধার্থে বসুরহাটে একটি বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তারা পুরো পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে তাদের বাসায় কোম্পানীগঞ্জ থানার এসআই শিশির কুমার বিশ্বাসসহ কয়েকজন বহিরাগত যান। তিনি ঘরে ঢুকেই বিদেশি নাগরিককে জড়িয়ে ফাতেমা বেগমকে অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। এক পর্যায়ে তাদের কাছে থানার ওসি পরিচয় দিয়ে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে দুজনকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন। এ সময় তিনি শিশিরকে ‘ভাই’ ডেকে তার হাতে-পায়ে ধরে এ বিষয়ে কোনো কিছু না করার আকুতি জানান। পরে এসআই শিশিরের হাতে ১২ হাজার টাকা তুলে দিলে তিনি চলে যান। এ ঘটনায় অভিযোগ দিলে গত শনিবার রাতে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেনের নির্দেশে অভিযুক্ত এসআই শিশিরকে কোম্পানীগঞ্জ থানা থেকে প্রত্যাহার করে নোয়াখালী পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
- বিষয় :
- নোয়াখালী
- এসআই
- বিদেশিকে হয়রানি