ঢাকা শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেতা-কর্মীর গায়ে হাত দিয়ে কেউ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না: শামীম ওসমান

নেতা-কর্মীর গায়ে হাত দিয়ে কেউ শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না: শামীম ওসমান
×

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১০:৩২

জীবিত থাকতে তার নেতা-কর্মীর গায়ে হাত দিয়ে কেউ এক ঘণ্টাও শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে উদ্দেশ্য করে শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের নম পার্কে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে এমন হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

নারাণগঞ্জের এই সাংসদ বলেন, শামীম ওসমান জীবিত থাকতে নারায়ণগঞ্জের কোনও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর গায়ে হাত দিয়ে কেউ এক ঘন্টাও শান্তিতে ঘুমাতে পারবে না। সরকারের বিরুদ্ধে দেশ ও দেশের বাইরে সমানভাবে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। প্রিয়া সাহা ও খালেদা জিয়ারা দেশের বাইরে ষড়যন্ত্র করছে। আর নারায়ণগঞ্জেও প্রিয়া সাহার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন দলেরই একজন নারী জনপ্রতিনিধি। যিনি সম্প্রতি দলেরই ৯ জন পরীক্ষিত নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন যারা রাজপথের লড়াকু সৈনিক।

শামীম ওসমান বলেন, ২০১৮ সালের ১৬ জানুয়ারি নগরের বঙ্গবন্ধু সড়কে হকারদের সঙ্গে নাসিক মেয়র আইভী ও তার অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। সেখানে মামলায় আমাকে ওই ঘটনার ইন্ধনদাতা উল্লেখ করে দলেরই ৯ জন নেতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। সরকারি দল করে আইভী স্পষ্টভাবে সরকারেরই বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, গত বুধবার নারায়ণগঞ্জের একটি ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে ওই মামলার পর দলের নেতা-কর্মীরা আমাকে অনুরোধ করে বলে- ভাই আপনি কয়েকদিনের জন্য দেশের বাইরে চলে যান। আমরা দেখাতে চাই নারায়ণগঞ্জের রাজপথ কাদের দখলে থাকে। শেখ হাসিনার কর্মীদের নাকি খন্দকার মোশতাকের অনুসারীদের। নেতা-কর্মীদের ভাষা বুঝতে পেরেই আমি সম্মেলনে এসেছি কিছু কথা বলতে।

শামীম ওসমান বলেন, আজকে প্রিয়া সাহারা বিদেশের মাটিতে গিয়ে দেশের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। আর নারায়ণগঞ্জে আমাদের দলের মেয়র দলের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করে প্রিয়া সাহাদের ভূমিকায় অবর্তীণ হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেহেতু আইভীর সঙ্গে হকারদের সংঘর্ষের ঘটনায় আমাকে ইন্ধনদাতা বলা হচ্ছে তাই পুলিশ প্রশাসনের কাছে এমপি হিসেবে নয় আসামি হিসেবে অনুরোধ করে বলছি; মামলাটির তদন্ত করেন। তদন্ত করলেই সেদিনের ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

শামীম ওসমান বলেন, বুয়েটে আবরার হত্যার ঘটনা যদি সিসিটিভির ভিডিও ফুটেজ থেকে সত্য বেরিয়ে আসতে পারে তাহলে নারায়ণগঞ্জে সেদিনের সংঘর্ষের ঘটনারও ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। তা দেখলেই সবকিছু স্পষ্ট হয়ে যাবে।

ক্ষমতাসীন সরকারের এই সংসদ সদস্য বলেন, সেদিন সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম শুধু দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের অনুরোধে। ভাগ্য ভাল যে মেয়র তার মামলায় উল্লেখ করেনি যে; ওবায়দুল কাদেরই ছিল সেই ঘটনার ইন্ধনদাতা।

শামীম ওসমান সম্মেলনে একটি দলিল দেখিয়ে বলেন, আইভীর ও তার বাবার সঙ্গে জামায়াতের নেতাদের গভীর সর্ম্পক রয়েছে যা এই দলিল প্রমাণ করে।

তিনি বলেন, এই দলিলটি ১৯৭৬ সালের ২১ অক্টোবরের। এই দলিলের মাধ্যমে আইভীর বাবা প্রয়াত পৌর মেয়র আলী আহাম্মদ চুনকা মাত্র ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে নগরের মাসদাইরে যুদ্ধাপরাধী আলী আহসান মুজাহিদের কাছে ৩৪ শতাংশ জমি বিক্রি করেছিলেন। ওই জমি ক্রয় করে মুজাহিদ একটি স্কুল গড়ে তোলে। সেই স্কুল এখনও চলছে। ওই ঘটনা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাত্র ১ বছর ৩ মাসের মাথায়।

শামীম ওসমান বলেন, গত বছর নারায়ণগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মাঈনুদ্দিন আহমাদ পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর জয়েন্ট ইন্টারগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কাছে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য প্রদান করে। ওই জামায়াত নেতার বক্তব্য এই দলিলের মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় যে আইভী ও তার পরিবারের সঙ্গে জামায়াত-বিএনপির সুনিবিড় সর্ম্পক রয়েছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শহীদ বাদল, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান প্রমুখ।

সম্মেলনে কণ্ঠ ভোটে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল এবং সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী একই পদে পুনরায় নির্বাচিত হন।

আরও পড়ুন

×