কুয়াকাটায় মাছ ধরার ট্রলারে বিব্রত পর্যটক
কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকের দৃষ্টিসীমাজুড়ে মাছ ধরা ট্রলারের সারি- সমকাল
পুলক চ্যাটার্জি, বরিশাল
প্রকাশ: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৪৪ | আপডেট: ২৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১৩:৪৫
সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বিরল দৃশ্য অবলোকন করা যায় কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত থেকে। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে সারা বছরই পর্যটকের ভিড় থাকে কুয়াকাটায়। তবে শীতকালে বনভোজন এবং শিক্ষা সফরের শতাধিক দলসহ প্রতিদিন হাজার হাজার পর্যটকের সমাগম ঘটে এখানে। তবে চলতি শীত মৌসুমের শুরু থেকেই কুয়াকাটা সৈকতে পর্যটকদের বিব্রত করছে মাছ ধরার শত শত ট্রলার। ট্রলারগুলো থেকে সাগরের পানিতে প্রতিদিন নির্গত হচ্ছে পেট্রল ও মবিল। এ ছাড়া ট্রলার থেকে মাছ নামানোর সময় গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিঘ্ন ঘটছে পর্যটকদের সমুদ্রস্নান এবং সৈকত ভ্রমণে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সাগরের মৎস্যসহ জলজ প্রাণী।
কুয়াকাটা ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, চলতি শীত মৌসুমের শুরু থেকেই প্রতিদিন শত শত ট্রলার ও নৌকা নোঙর করে রাখা হয় কুয়াকাটা সৈকতের জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন সাগরে।
পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় এক কিলোমিটার জুড়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ট্রলারগুলো অবস্থান করায় পর্যটকরা চরম বিব্রত হচ্ছেন।
তিনি বলেন, জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন সাগরে পর্যটকরা গোসল করেন এবং সৈকতে ঘুরে বেড়ান। অথচ ট্রলারগুলো সৈকত সংলগ্ন সাগরে নোঙর করে সূর্য ওঠার আগেই মাছ নামানো শুরু করে। মাছ নামানো শেষ হলে জেলেরা সৈকতে জাল শুকাতে দেন। মাছ ও জালের দুর্গন্ধে পর্যটকদের সৈকতে ঘুরে বেড়াতে হয় নাক চেপে। তা ছাড়া ট্রলারগুলো থেকে মবিল ও পেট্রল পড়ে সৈকত সংলগ্ন সাগরের পানি কালচে হয়ে যায়। এমনকি ট্রলারগুলো থেকে মাছের বর্জ্য ফেলা হয় সাগরে।
আনোয়ার হোসেনের অভিযোগ, সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ এ সংকট সমাধানে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অথচ গত বছর পর্যটন মৌসুমে ট্যুরিস্ট পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জেলেদের সৈকতের জিরোপয়েন্ট থেকে পূর্ব-পশ্চিমে সাগরের দুই কিলোমিটারের মধ্যে ট্রলার নোঙর করতে নিষেধ করা হয়েছিল। সে কারণে গত বছর সৈকত সংলগ্ন সাগরে কোনো ট্রলার নোঙর করা হতো না।
বরিশাল থেকে আসা পর্যটক মারিফ আহম্মেদ বাপ্পী বৃহস্পতিবার অভিযোগ করেন, সকালে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাগরে গোসল করতে গিয়ে ফিরে এসেছেন। কারণ, সাগরের পানিতে ভাসছিল পোড়া মবিল। পড়ে থাকা পচা মাছের দুর্গন্ধে সৈকতে হাঁটাও মুশকিল হয়ে পড়েছে। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার পর্যটক। ভোলার নজরুল ইসলাম বলেন, অসংখ্য ট্রলার ভিড়িয়ে রাখার কারণে খোলামেলা সমুদ্র দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন পর্যটকরা।
বরিশাল বিভাগীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী বায়োকেমিস্ট মুনতাসির রহমান বলেন, সাগরের পানিতে জ্বালানি তেল নির্গত হওয়ায় মাছসহ জলজ প্রাণীর খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। তা ছাড়া পানিতে জ্বালানি তেল মিশে পরিবেশ ও প্রতিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করে।
কুয়াকাটার উপকূলীয় জেলে সমিতি আশার আলোর সাধারণ সম্পাদক নিজাম শেখ বলেন, এ বছর শীতের শুরু থেকেই সৈকত সংলগ্ন সাগরে শত শত ট্রলার নোঙর করে রাখা হচ্ছে। তবে তার অভিযোগ, ওই ট্রলারগুলো আসে বরগুনার পাথরঘাটা, আমতলী এবং পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থেকে। তারা জানেন না কোথায় ট্রলার রাখতে হবে। এ জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের মাইকিং করা প্রয়োজন। কিন্তু তারা তা করছে না। তিনি বলেন, প্রয়োজনে তিনি নিজেই সমিতির পক্ষ থেকে মাইকিং করে ট্রলারগুলো সৈকত সংলগ্ন সাগরে না রাখার অনুরোধ জানাবেন।
কুয়াকাটা সৈকত ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এবং কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান বলেন, সৈকত সংলগ্ন সাগরে ট্রলার না রাখার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে মাইকিং করতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম বলেন, 'সৈকতে ট্রলার নোঙর না করার জন্য মাইকিং করেছি। এখন ট্রলার রাখা হয় না। কিছু ফাইবার বোট ও স্পিড বোট থাকে। সেগুলো না রাখার জন্য বলা হয়েছে।'
- বিষয় :
- বরিশাল
- কুয়াকাটা
- সমুদ্রসৈকত
