তাহিরপুর
পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত
ছবি: সমকাল
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ১৬:২৯
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টানা দুই দিনের ভারী বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চলের অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে যাওয়ায় সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এছাড়াও কোথাও কোথাও ভাঙনের সৃষ্টি হওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি নদী যাদুকাটা, মাহারাম, রক্তি ও পাটলাই নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে ঢলের পানি দ্রুত নেমে এসে উপজেলার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত করেছে। এতে দক্ষিণ শ্রীপুর, উত্তর শ্রীপুর, দক্ষিণ বড়দল, বাদাঘাট ও বালিজুড়ি ইউনিয়নের ৫০টিরও বেশি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পাহাড়ি ঢলের কারণে যাদুকাটা ও মাহারাম নদীতে বালি-পাথর উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে চারাগাঁও শুল্ক স্টেশনের শতাধিক কয়লার ডিপো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ১০ হাজার কয়লা পরিবহন শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।
এদিকে নদী ও হাওরের পানি একাকার হয়ে যাওয়ায় নদীতীরবর্তী ও হাওরপারের গ্রামগুলো ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বড় বড় ঢেউয়ের আঘাতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। মাছ ধরতে না পারায় জেলে পরিবারগুলোও চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে। তবে অনেককে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে ভেসে আসা বালু মিশ্রিত কয়লা কুড়িয়ে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।
প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে— রাজধরপুর, রামজীবনপুর, সাহেবনগর, পৈন্ডুপ, গোপালপুর, মারালা, নোয়ানগর, ইক্রামপুর, জগদীশপুর, সাহসপুর, সুলেমানপুর, উমেদপুর, আনন্দনগর, পাটাবুকা, ভবানীপুর, বিনোদপুর, ইন্দ্রপুর, পানিয়াখালী, জয়পুর, গোলাবাড়ী, ভোরারঘাট, কামালপুর, জামালপুর, টাকাটুকিয়া, রসুলপুর, কাউকান্দি, ধরুন্দ, কাঞ্চনপুর, ইউনূছপুর, পাতারগাঁওসহ অর্ধশতাধিক গ্রাম।
বালিজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ হোসেন বলেন, ‘ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের অধিকাংশ সড়ক ও জনপদ ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক এলাকায় যাতায়াত প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে।’
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান মানিক বলেন, ‘তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের আনোয়ারপুর এলাকায় সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে ওই পথে চলাচলকারী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
