ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় বৃক্ষমেলায় এবার চারা বিক্রি কম হয়েছে

জাতীয় বৃক্ষমেলায় এবার চারা বিক্রি কম হয়েছে
×

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার শেষ দিনে ছিল ক্রেতা-দর্শনার্থীর ভিড়। গতকাল রোববার। ছবি: সমকাল

 জাহিদুর রহমান

প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:২০ | আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬ | ১৩:২১

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরোনো বাণিজ্য মেলা মাঠে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলা শেষ হয়েছে গতকাল রোববার। তবে বৃষ্টি, প্রচারের ঘাটতি ও মেলার সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে এবার ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। এর প্রভাব পড়েছে চারা বিক্রিতে। 

এই মেলা গত ৯ জুলাই শুরু হয়। মেলায় ১২০টি স্টল ছিল। এবার মেলায় ১৫ লাখ ৭১ হাজার ১২০টি চারা বিক্রি হয়েছে। এসব চারার মোট বিক্রয়মূল্য ১৫ কোটি ৬৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা। গত বছর ১৬ লাখ ৯১ হাজার ৪২৩টি চারা বিক্রি হয়েছিল, যার মূল্য ছিল ১৪ কোটি ৭৯ লাখ ৯ হাজার টাকা। ২০২৪ সালে বিক্রি হয়েছিল ৩১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৯৩টি চারা। বিক্রয়মূল্য ছিল ১৬ কোটি ২৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

করোনা মহামারির কারণে ২০২০ ও ২০২১ সালে মেলা হয়নি। ২০২২ সালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে আয়োজিত বৃক্ষমেলায় ১৬ লাখ ৩০ হাজারের বেশি চারা বিক্রি হয়। বিক্রয়মূল্য ছিল ১২ কোটি ৪২ লাখ ৩০ হাজার ২৪২ টাকা। ২০২৩ সালে চারা বিক্রি বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ লাখ দুইু হাজার ৬১৪টিতে। বিক্রয়মূল্য ছিল ১৪ কোটি ৮১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। 

অর্থের হিসাবে এবার বিক্রি গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও চারার সংখ্যার হিসাবে কমেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এবার চারা বিক্রি হয়েছে অর্ধেক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেলায় মানুষের উপস্থিতি বাড়াতে প্রচার এবং সময় নির্ধারণে আরও গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল।

বিভিন্ন স্টলের বিক্রেতারা জানান, এবার মেলায় বৃষ্টির প্রভাব ছিল স্পষ্ট। প্রায় পুরো মাসজুড়েই বৃষ্টি হওয়ায় মেলায় ক্রেতা কম এসেছে। অনেকে বৃষ্টির কারণেও মেলায় আসেননি।

আশুলিয়া থেকে আসা সায়েম নার্সারির বিক্রেতা প্রতিনিধি মো. সায়েম বলেন, বৃষ্টির কারণে ক্রেতা অনেক কম ছিল। আবার অনেকেই জানতেন না যে মেলা শুরু হয়েছে। আগে সাধারণত জুন মাসে মেলা হতো। এবার জুলাইয়ে শুরু হওয়ায় অনেকের প্রস্তুতিও ছিল না। এর সঙ্গে প্রচারের ঘাটতিও যুক্ত হয়েছে। মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন বলেন, আগের তুলনায় এবার মেলা শুরুর আগে প্রচার-প্রচারণা কম ছিল। ফলে রাজধানীর অনেক মানুষ মেলা চলছে, সেটিই জানতে পারেননি।

এ বিষয়ে ঢাকা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) শারমীন আক্তার বলেন, অন্যান্য বছর মেলা এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়। এবার ৩০ দিনেই মেলা শেষ হয়েছে। ফলে অন্যান্য বছরের চেয়ে বিক্রি কম হতে পারে।

এবারের মেলায় অধিকাংশ স্টলেই বিদেশি ফুল ও ফলগাছের আধিক্য ছিল। ভিয়েতনামি নারকেল, বারোমাসি আম, মালয়েশিয়ান লেবু, ব্রাজিলিয়ান চেরি, ড্রাগন ফল, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, ম্যাঙ্গোস্টিন ও লংগানের মতো বিদেশি প্রজাতির চারা সাজিয়ে রাখা হয়েছিল। বিক্রেতাদের অনেকেই এসব গাছকে লাভজনক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষ্য, এসব গাছের অনেকগুলো দ্রুত ফল দেয় এবং ক্রেতাদের মধ্যে এগুলোর চাহিদাও বেশি। অন্যদিকে কতবেল, জলপাই, দেশি জাম, গাব, কাউ, বৈঁচি, চালতা, বনজাম, ডেউয়া, করমচা ও দেশি বরইয়ের মতো প্রজাতির চারা খুঁজতে ক্রেতাদের একাধিক স্টলে ঘুরতে হয়েছে।

বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট, চট্টগ্রামের স্টলে বন গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, বিদেশি ফুল ও ফল চাষে আপত্তি নেই। কিন্তু দেশি প্রজাতি অবহেলিত হলে দীর্ঘ মেয়াদে জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তিনি বলেন, স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া দেশি গাছ কমে গেলে পাখি, মৌমাছি, প্রজাপতি ও নানা উপকারী প্রাণীর আবাসও সংকুচিত হবে। দেশি গাছ শুধু ফলের উৎস নয়, এগুলো স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের ভিত্তি।

গতকাল বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বন ভবনে জাতীয় বৃক্ষমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সবাইকে মেলা থেকে কেনা চারা যথাযথভাবে রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু গাছ লাগালেই হবে না, প্রতিটি চারার সুরক্ষা ও নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তরুণ ও যুব সংগঠনসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এগিয়ে এলে ২০৩৫ সালের মধ্যে দেশের বৃক্ষাচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী একটি শহরে প্রায় ২০ শতাংশ সবুজ থাকলে সেটিকে বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু ঢাকায় সবুজায়নের জায়গা সীমিত। তাই শহরের বাড়ির ছাদগুলোকে সবুজায়নের আওতায় আনা যেতে পারে।
এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব (ভারপ্রাপ্ত) ড. ফাহমিদা খানম ও বাংলাদেশ জলবায়ু ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী রওনাকুল ইসলাম (টিপু)।

আরও পড়ুন

×