ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

পুনঃপেনশন-ভাতার রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে গ্রামীণ ব্যাংক, অবসরপ্রাপ্তদের অভিযোগ

পুনঃপেনশন-ভাতার রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করছে গ্রামীণ ব্যাংক, অবসরপ্রাপ্তদের অভিযোগ
×

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সংবাদ সম্মেলন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৫

গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনঃপেনশন ও অন্যান্য ভাতা প্রদানে হাইকোর্টের রায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতি। সংগঠনটির দাবি, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনও রায় বাস্তবায়নে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গ্রামীণ ব্যাংক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী সমিতির সভাপতি কেএম শহীদুল হক। 

তিনি বলেন, ১৯৮৩ সালে অধ্যাদেশের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান। ফলে সরকার ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও প্রাপ্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃপেনশন, উৎসব ভাতা, চিকিৎসা ভাতা ও বাংলা নববর্ষ ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। 

তিনি জানান, অবসরপ্রাপ্তদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন সময়ে কিছু কিছু পদক্ষেপ নেয় সরকার। এর মধ্যে ২০০৪ সালের ৮ জুলাই সরকারি, আধাসরকারি, সংবিধিবদ্ধ ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উৎসব ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা দেওয়া সিদ্ধান্ত নেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বাংলা নববর্ষ ভাতা দেওয়ার জন্যও নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া ২০১৮ সালে শতভাগ পেনশন সমর্পণের ১৫ বছর পর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনঃপেনশন চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে পুনঃপেনশন ও ভাতা দেওয়া অব্যাহত থাকলেও অবসরপ্রাপ্তদের এসব সুবিধা দেয়নি গ্রামীণ ব্যাংক।

শহীদুল হক বলেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন আন্দোলন ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। রিট নম্বর ৯৫২৬/২০২১ ও ৬৭৬৫/২০২১-এর শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ হাইকোর্ট তাদের পক্ষে রায় দেন। পরে গত ২২ জুন ২০২৬ পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃপেনশন ও অন্যান্য ভাতা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আদালত স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, গ্রামীণ ব্যাংক একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং সরকার ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা এ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

তাঁর অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরও অবসরপ্রাপ্তরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখায়নি। বরং নানা অজুহাতে বিষয়টি বিলম্বিত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় ২০২১ সালে হাইকোর্টে কয়েকটি রিট করেন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৯ মার্চ রিট আবেদনকারীদের পক্ষে রায় দেন বিচারপতি নাইমা হায়দার ও কাজী জিনাত হকের আদালত। গত ২২ জুন পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। রায়ে গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্তদের পুনঃপেনশন ও অন্যান্য ভাতা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। রায় প্রকাশের পর গ্রামীণ ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্তরা বিভিন্নভাবে যোগাযোগ করেন। কিন্তু দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি মেলেনি। বরং তারা রায় বাস্তবায়ন না করতে এখনও নানাভাবে গড়িমসি করছেন। ফলে প্রায় ১৪ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিবার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অতএব সবার দাবি যেন এটি দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৯৪ সালে ‘স্বেচ্ছা অবসর’ কর্মসূচির মাধ্যমে এবং পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই বিপুল সংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবসরে যেতে বাধ্য করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এবং হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান সমিতির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি হাবিবুল ইসলাম, উপদেষ্টা একেএম গোলাম মাওলা, মহাসচিব অ্যাডভোকেট সিদ্দিকুর রহমান, অর্থ সম্পাদক আবু মোহাম্মদ মতিউজ্জামানসহ গ্রামীণ ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত আরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
 

আরও পড়ুন

×