কমিশন বৃদ্ধিসহ চার দাবিতে সিএনজি স্টেশন মালিকদের ধর্মঘটের আলটিমেটাম
সিএনজি বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ছবি: সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৬:১৪ | আপডেট: ২১ জুলাই ২০২৬ | ১৬:৩৬
সিএনজি বিক্রিতে কমিশন বৃদ্ধিসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নের আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। দাবি পূরণ না হলে আগামী ৩০ জুলাই দেশব্যাপী প্রতীকী ধর্মঘট এবং পরে ২৩ আগস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিজয়নগরের আকরাম টাওয়ারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ সময় সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্ত, মহাসচিব ফারহান নূরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য গঠিত স্টিয়ারিং কমিটির আহ্বায়ক আমিরুজ্জামান চৌধুরী।
সংগঠনটির দাবি, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অথচ গত প্রায় ১১ বছরে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম, শ্রমিকের মজুরি, ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশন, ঋণের সুদ, ডলারের বিনিময় হার এবং স্টেশন পরিচালনার অন্যান্য ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন লোকসানে পরিচালিত হচ্ছে।
সংগঠনটির চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে কমিশন ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণ, ভবিষ্যতে জ্বালানির দাম বাড়লে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমিশন সমন্বয়ের ব্যবস্থা, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পুরোনো গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত জামানত নেওয়ার প্রথা বাতিল এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের ভূমি ইজারাসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার লাইসেন্স ও নবায়ন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৩০ জুলাই সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দেশের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে প্রতীকী ধর্মঘট পালন করা হবে। এ সময় সরকারের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ থাকবে। তবে দাবি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হলে ২৩ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী সব সিএনজি ফিলিং স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দাবি নিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে যোগাযোগ করেও তারা ইতিবাচক সাড়া পাননি।
তারা আরও বলেন, কমিশন বাড়ানোর বিষয়টি নতুন নয়। এর আগে মন্ত্রণালয় ও পেট্রোবাংলার গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি কমিশন ২ টাকা ৯৮ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে ২০১৫ সালে বিইআরসি মাত্র ১ টাকা কমিশন বৃদ্ধি করায় বাকি সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি।
সংগঠনের নেতাদের দাবি, সরকার সিএনজির ক্রয় ও বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ায় পরিচালন ব্যয় বাড়লেও তা গ্রাহকের ওপর চাপানোর সুযোগ নেই। ফলে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এ খাত টিকিয়ে রাখতে দ্রুত কমিশন পুনর্নির্ধারণসহ চার দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
- বিষয় :
- সিএনজি ফিলিং স্টেশন
- আলটিমেটাম
- ধর্মঘট