ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

নৃশংসতায় পিছু হটে জনতা আদালতকে ব্যবহার

নৃশংসতায় পিছু হটে জনতা  আদালতকে ব্যবহার
×

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৩৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ২০২৪ সালের ২১ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথ দখল নেয়। টানা তিন দিনের প্রতিরোধের পর গুলির মুখে অভ্যুত্থানকারীরা বিভিন্ন এলাকার নিয়ন্ত্রণ হারান এবং ইন্টারনেট না থাকায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পিছু হটেন। 

জনতাকে শান্ত করতে এদিন কারফিউয়ের মধ্যে আপিল বিভাগের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে কোটার সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়। তবে আদালতের এই রায়ের দিনেও থামেনি রাজপথে প্রতিরোধ ও হত্যাযজ্ঞ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের দফায় দফায় সংঘর্ষে ১৯ জন শহীদ হন, যা আগের তিন দিনের তুলনায় কম। 

আগের তিন দিনে সারাদেশে হাজার হাজার তরুণ যুবক আহত হওয়ায় ২১ জুলাই সড়কে তাদের উপস্থিতিও কম ছিল। ঢাকা এবং বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে আহত রোগী রাখার জায়গা ছিল না। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একের পর এক অভ্যুত্থানকারীর মৃত্যু হয় ২১ জুলাই। 

যে আদালত এক সপ্তাহ আগেও বলেছিল, ‘আন্দোলনে রায় পরিবর্তন হবে না’- সেই আদালত ২১ জুলাই তড়িঘড়ি বসে রায় দেয়, মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনিদের জন্য কোটা থাকবে না। ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ মোট ৭ শতাংশ কোটা থাকবে সরকারি চাকরিতে। 

এই রায়কে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণ আখ্যা দিয়ে আন্দোলনের ইতি টানার আহ্বান জানায় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। তবে কারফিউ এবং সাধারণ ছুটি অব্যাহত রাখে, যাতে মানুষ রাজপথে না নামে। 
কারফিউয়ের মধ্যে সকাল ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে কোটা সংক্রান্ত লিভ টু আপিলের শুনানি শুরু হয়। দুপুর ১টার দিকে সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন আদালত।

আদালতের রায় ও প্রজ্ঞাপন জারির পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলমের বরাতে জানায়, আন্দোলন ৪৮ ঘণ্টার জন্য স্থগিত করা হয়েছে। তবে সন্ধ্যায় অজ্ঞাত স্থান থেকে আরেক সমন্বয়ক আবদুল কাদের জানান, এমন সিদ্ধান্ত হয়নি। 
আপিল বিভাগের এই রায়কে কোটা সংস্কার আন্দোলনের আইনি বিজয় হিসেবে দেখা হলেও আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট করেছেন যে, শুধু কোটা সংস্কার নয়, গত কয়েকদিনে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো বর্বর রাষ্ট্রীয় কোন্দল ও হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত ক্ষোভ প্রশমিত হবে না। 

ফলে রায়ের পরও সারাদিন রাজপথ ছিল থমথমে ও সংঘাতমুখর। সেনা মোতায়েনসহ কারফিউ বলবৎ থাকলেও ঢাকার বিভিন্ন পয়েন্টে আন্দোলনকারীরা রাজপথে নেমে আসেন। রাজধানীর উত্তরা, আজমপুর, যাত্রাবাড়ী, শনির আখড়া এবং রামপুরা-বাড্ডা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ছররা গুলি, রাবার বুলেট ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। সেদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই ১০ জনের মরদেহ আনা হয়। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে নরসিংদীতে ৪ জন, গাজীপুরে ২ জন এবং নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও চট্টগ্রামে ১ জন করে নিহতের খবর পাওয়া যায়। 
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মধ্যরাতে খিলগাঁওয়ের একটি বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে ২১ জুলাই ঢাকার পূর্বাচল এলাকায় রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

×