ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

দুই বছর পর প্রাণচঞ্চল পর্যটনকেন্দ্রগুলো

দুই বছর পর প্রাণচঞ্চল পর্যটনকেন্দ্রগুলো
×

ছবি: ফাইল

দেলওয়ার হোসেন

প্রকাশ: ২৯ এপ্রিল ২০২২ | ১২:০০

করোনার কারণে গত বছর সারাদেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় ঘরবন্দি ছিল মানুষের ঈদ আনন্দ। এবার কমেছে প্রাণঘাতী ভাইরাসটির সংক্রমণ। তাই ঈদ ঘিরে উচ্ছসিত মানুষ। পর্যটনসংশ্নিষ্টরা আশা করছেন, ঈদে সারাদেশের বিনোদনকেন্দ্রগুলোয় প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘোরাঘুরি করবেন। এরমধ্যে শুধু কক্সবাজারেই দুই থেকে আড়াই লাখ মানুষ যাবেন।

জানা যায়, দুই বছরের বেশি সময় বিরতির পর বিপুলসংখ্যক পর্যটক বরণ করতে প্রস্তুতি নিয়েছে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুয়াকাটাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। গত দুই বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে এবার ঈদে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নও দেখছেন পর্যটনশিল্পের ব্যবসায়ীরা। ভ্রমণপিপাসু অনেকেই ইতোমধ্যে ওইসব এলাকার হোটেল-মোটেলে আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন। সংশ্নিষ্ট এলাকার স্থানীয় প্রশাসনও পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য করতে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে।

ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) প্রেসিডেন্ট মো. রাফেউজ্জামান সমকালকে বলেন, পর্যটনের ক্ষতি পূরণে ডোমেস্টিক ট্যুরিজমে জোর দেওয়া হয়েছে। সমগ্র দেশে যাতে পর্যটকরা ঘুরতে পারেন সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। এবারের ঈদে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ঘুরতে বের হবেন।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদ জানান, পর্যটকদের ভ্রমণ নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্য করতে তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। কক্সবাজারে সাড়ে চারশ হোটেল রয়েছে। সব হোটেলের মালিকদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। পর্যটকদের সব ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কক্সবাজারে পর্যটকের সংখ্যা কেমন হতে পারে জানতে জাইলে তিনি বলেন, কোনো পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই।

জানা যায়, ইতোমধ্যে কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে ৮০ শতাংশ কক্ষের আগাম বুকিং হয়ে গেছে। সশ্নিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের পরের দুই-তিন দিন কোনো হোটেলেই জায়গা খালি থাকবে না।

কক্সবাজারের হোটেল সায়মন বিচ রিসোর্টের ম্যানেজার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পবিত্র রমজানের এক মাস কক্সবাজার ভ্রমণ করতে পারেননি পর্যটকরা। এখন ঈদের পরে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক আসবেন। এজন্য আমাদের হোটেলে বেশিরভাগ রুম বুকিং হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যামিউজমেন্ট পার্ক অ্যান্ড অ্যাট্রাকশন্স (বাপা) সমন্বয়ক অনুপ কুমার সরকার বলেন, ঈদের পর দিন থেকে পুরো সপ্তাহ রিসোর্টগুলোয় বুকিং রয়েছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মোহাম্মদ আলী মিয়া সমকালকে বলেন, গত দুই বছর পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় এবার সারাদেশে পর্যটকের সমাগম ঘটবে। তাই পর্যটকের সেবা নিশ্চিত করতে ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশ।

সমকাল প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে জানা যায়, রাঙামাটির হোটেল-মোটেলের ৭০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বিশেষ করে সাজেক ভ্যালির সৌন্দর্য অবলোকন করতে ইতোমধ্যে বেশিরভাগ হোটেল বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটকদের বরণের প্রস্তুতিও সেরেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ কাপ্তাই হ্রদে নৌবিহার। এ কাজে নিয়োজিত আছে জেলার প্রায় ৫০০ ইঞ্জিনচালিত বোট। সবচেয়ে বেশি বোট মেলে বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুর পাড়ের ঘাটেই। এ ঘাটের ব্যবস্থাপক রমজান আলী জানান, এর মধ্যেই বেশিরভাগ বোটের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

রাঙামাটি পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক সৃজন বিকাশ বড়ূয়া বলেন, আমাদের মোটেল-কটেজে ৮৮টি রুম আছে। এর মধ্যে ৭০ ভাগেরও বেশি বুকিং হয়ে গেছে। আশা করছি বাকিগুলোও এ সপ্তাহের মধ্যে বুকিং হয়ে যাবে।

পর্যটকদের বরণ করতে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে কুয়াকাটা। ঈদের দিন থেকে লক্ষাধিক পর্যটকের আগমন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এমন প্রত্যাশাকে সামনে রেখে আলোকসজ্জাসহ রঙের আস্তরণ আর নতুন কারুকার্যে সজ্জিত হয়েছে অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-কটেজ ও বাজার। সৈকতে বসেছে খাবারসহ নানা পণ্যের ভ্রাম্যমাণ দোকান।

সিলেটের জাফলং ও বিছনাকান্দির আকর্ষণীয় স্থানগুলোয় পর্যটকবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতোমধ্যে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সভা করা হয়েছে।

ট্যুরিস্ট পুলিশ জাফলং জোনের ওসি মো. রতন শেখ জানান, পর্যটকেরা যাতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারেন সে লক্ষ্যে ট্যুরিস্ট পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছেন।

আরও পড়ুন

×