ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ

খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি আজ
×

ছবি: ফাইল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:০৮ | আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৫:২১

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের ওপর আজ রোববার হাইকোর্টে শুনানি হবে। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কে এম জহিরুল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চে রোববারের কার্যতালিকায় আবেদনটি এক নম্বরে রাখা হয়েছে। উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির আগের দিন গতকাল রাতে চার ঘণ্টা বৈঠক করলেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা।

জামিন পেলে অসুস্থ খালেদা জিয়া উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাবেন বলে আবেদনে বলেছেন দলীয় নেতা ও আইনজীবীরা। এ পরিস্থিতিতে সবার চোখ থাকবে আজ উচ্চ আদালতের দিকে। বিএনপি নেতা ও আইনজীবীরা আশা করছেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনা করে উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেবেন। অন্যদিকে পর্দার আড়ালে রাজনৈতিক সমঝোতা হয়ে থাকলে তারও একটি 'প্রভাব' এতে পড়তে পারে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার  মওদুদ আহমদ সমকালকে বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক একটি মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে। অতীতে অনেক রাজনীতিবিদ অসুস্থতাজনিত কারণে জামিন পেয়েছেন। তিনি আশা করেন, দেরিতে হলেও খালেদা জিয়া সুবিচার পাবেন। দেশের মানুষেরও প্রত্যাশা, জামিন নিয়ে তিনি উন্নত চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি দল ও পরিবার সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তারা আবেদনেও বিষয়টি উপস্থাপন করবেন।

অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন সমকালকে বলেন, খালেদা জিয়া জামিন পাবেন বলে তারা আশাবাদী। একজন বয়স্ক নারী হিসেবে মানবিক কারণে দেশের মানুষও খালেদা জিয়ার জামিন চায়। তবে দুদকের আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সমকালকে বলেন, শুনানিতে তারা কোনো ছাড়া দেবেন না।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের দীর্ঘ বৈঠক :উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানির আগের দিন চার ঘণ্টা বৈঠক করলেন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। গতকাল বিকেল ৪টা থেকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ বৈঠকে স্কাইপের মাধ্যমে লন্ডন থেকে যুক্ত হন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার সভাপতিত্বে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের পর আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের কিছু বলেননি। তবে বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। এ মামলায় জামিন হলে দুই বছর ধরে কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তিতে আর বাধা থাকবে না বলে আশা করছেন বিএনপির আইনজীবীরা।

উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়ার জামিন চেয়ে গত মঙ্গলবার হাইকোর্টের সংশ্নিষ্ট শাখায় আবেদনটি জমা দেওয়া হয়। গত বুধবার খালেদা জিয়ার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন আবেদনটি আদালতে উপস্থাপন করেন। এ সময় বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক ওবায়দুল হাসান বলেন, এর আগে তো আমরা এই আবেদনটি খারিজ করেছিলাম। পরে আপিল বিভাগও সেটি বহাল রেখেছেন। জবাবে খন্দকার মাহবুব বলেন, আমরা তো আবারও আসতে পারি। জামিন চাইতে বারবার আসতে তো বাধা নেই। বিচারক তখন বলেন, ঠিক আছে, আমরা বিষয়টি রোববার শুনব।

জামিন আবেদনে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসা হচ্ছে না। জামিন পেলে তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দিন দিন অবনতি হচ্ছে। তিনি এখন গুরুতর অসুস্থ। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না, খেতে পারছেন না; এমনকি ওষুধও নিতে পারছেন না। তাই দ্রুত তাকে যুক্তরাজ্যের মতো উন্নত দেশে নিয়ে আধুনিক, উন্নত চিকিৎসা বা থেরাপি দেওয়া প্রয়োজন।

দুর্নীতির দুই মামলায় মোট ১৭ বছরের দ মাথায় নিয়ে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত এপ্রিল থেকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন। দল ও পরিবারের সদস্যরা তাকে অন্য হাসপাতালে নিতে চাইলেও তাতে অনুমতি মেলেনি।

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় জামিনের জন্য এর আগেও হাইকোর্টে আবেদন করেছেন খালেদা জিয়া। গত ৩১ জুলাই সেই আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা এরপর আপিল বিভাগে গিয়েও ফল পাননি। গত ১২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে জামিন আবেদনটি খারিজ করে দেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের সম্মতি থাকলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার পদক্ষেপ নিতে বলা হয় আপিল বিভাগের রায়ে।

আরও পড়ুন

×