চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলন
বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দর ইজারা বন্ধসহ ৫ দফা দাবি
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। ছবি: সমকাল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৭:২০ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৭:৩৪
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কন্টেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বন্দর রক্ষা কমিটির নেতারা। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরকে জাতীয় মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণে রাখার দাবিও জানিয়েছেন তারা।
আজ রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ বাতিলের দাবিতে পহেলা জুলাই সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে সমাবেশ ও মানববন্ধন করবে বন্দর রক্ষা কমিটি।
লিখিত বক্তব্যে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়। ফলে এ বন্দরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার বিষয়টি শুধু বাণিজ্যিক নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। অথচ এরপরও বন্দরের এনসিটি ও সিসিটি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে, বিশেষ করে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থি। তাই, অবিলম্বে এ উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।
নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিশেষ সূত্রে আমরা জানতে পেরেছি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) কাঠামোর আওতায় এনসিটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত নেগোসিয়েশন কমিটিকে সহায়তা দিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্যবিশিষ্ট একটি সাপোর্ট টিমও গঠন করেছে। সিসিটি দেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ টার্মিনাল। একইভাবে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালও দেশের জনগণের অর্থে নির্মিত জাতীয় সম্পদ। এসব স্থাপনায় নতুন করে বিদেশি বিনিয়োগের কোনো প্রয়োজনীয়তায় নেই। তা ছাড়া নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। টার্মিনালটি নির্ধারিত সক্ষমতার চেয়েও বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিংও করছে।
নেতারা আরও বলেন, এনসিটির বার্ষিক অবকাঠামোগত সক্ষমতা ১১ লাখ টিইইউস হলেও বর্তমানে বছরে প্রায় ১৩ লাখ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডেল করা হচ্ছে। চলতি বছরের মে মাসে এনসিটি এক মাসে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস কন্টেইনার হ্যান্ডেল করে নতুন রেকর্ডও করেছে। এর প্রেক্ষিতে এটা সহজেই বলা যাচ্ছে যে, দেশীয় ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে এনসিটি। এরপরও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে। যা কোনোভাবে মেনে নেবে না চট্টগ্রামবাসীসহ কেউই। অতীতেও এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ শ্রমিক ও জনগণের প্রতিরোধের মুখে বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ আবারও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সবার মাঝে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বন্দরের সব টার্মিনাল বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে পরিচালনা করা, বন্দর-সংশ্লিষ্ট সব চুক্তি জনগণের সামনে প্রকাশ করা, জাতীয় স্বার্থবিরোধী কোনো চুক্তি না করাসহ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, প্রকৌশলী সুভাষ চন্দ্র বড়ুয়া, টিইউসি জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান, জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম, বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু প্রমুখ।
- বিষয় :
- চট্টগ্রাম
