রৌমারী সীমান্ত
১৪ দিন ধরে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে তিন যুবক
ছবি: সমকাল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৭:৪২
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ইজলামারী ভন্দুরচর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশইনের শিকার হয়ে ১৪ দিন ধরে শূন্যরেখায় খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করছেন তিন যুবক। বিজিবি ও বিএসএফ নজরদারি বজায় রাখলেও তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি তারা।
জামালপুর বিজিবি ৩৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন যুবকের অবস্থান করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইজলামারী সীমান্তে গিয়ে দেখা গেছে, তিন যুবক মাটিতে পলিথিন বিছিয়ে শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করছেন। রোদ থেকে রক্ষা পেতে নিজেদের পোশাক টানিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করেছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন বলেন, ওই তিন যুবক সীমান্তের শূন্যরেখায় ঝড়-বৃষ্টি ও বজ্রপাতের আশঙ্কার মধ্যেই মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। ইজলামারী ক্যাম্প থেকে ও স্থানীয়রা তাদের খাবার দিয়ে সহযোগিতা করছেন। কিন্তু আজ ১৪ দিন হলো তাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা হয়নি।
এর আগে গত ১৪ জুন ভোর ৬টার দিকে উপজেলার গয়টাপাড়া সীমান্তপথে নারী-শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্তপথে তিন যুবককে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ প্রান্তে ঠেলে দেওয়া হলেও বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধায় তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে পাঠাতে পারেনি বিএসএফ। মা ও শিশুর জীবন সংকট নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত ১৮ জুন ভোরে দুই শিশুসহ দম্পতিকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে গত ২৩ জুন একই সীমান্তের দুই যুবককেও সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় তিন যুবক বিজিবি ও বিএসএফের প্রহরায় ১৪ দিন ধরে অবস্থান করছেন।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের জন্য বিএসএফকে অবহিত করা হয়েছে। তবে বিএসএফ বলছে, ওই তিন যুবক ভারতের নাগরিক নন। ফলে বিষয়টির সমাধানে তারা আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
- বিষয় :
- পুশইন
- বাংলাদেশ-ভারত
- সীমান্ত
