ঢাকা রোববার, ২৮ জুন ২০২৬

বকশীগঞ্জে ভাঙনে দিশেহারা নদী পাড়ের মানুষ

বকশীগঞ্জে ভাঙনে দিশেহারা নদী পাড়ের মানুষ
×

নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি। আজ রোববার উপজেলার ফকিরপাড়া এলাকা থেকে তোলা ছবি: সমকাল

মাসুদ উল হাসান, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা

প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৭:৪৫ | আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৭:৪৬

পানি বাড়লেও ভাঙে আবার কমলেও ভাঙে। এ যেন নদীর সঙ্গে পাড়ের মানুষের পুরোনো শত্রুতা। নদী ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পাড়ের অসহায় মানুষ। দশানী, জিঞ্জিরাম ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়েছে। পানি বাড়ার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে ভাঙন। গত কয়েকদিনের প্রবল ভাঙনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। গাছপালা ও ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। ফলে ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরবর্তী মানুষেরা। ত্রাণ নয়, ভাঙনরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তাদের। 

জানা যায়, গত কয়েকদিনে দশানী নদী, ব্রহ্মপুত্র নদ ও জিঞ্জিরাম নদীর পানি কিছুটা বেড়েছে। পানি বাড়ায় প্রবল স্রোত বইছে নদীতে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নদীর ভাঙন। বিশেষ করে- বকশীগঞ্জ উপজেলার মেরুরচর ইউনিয়নের শেখেরচর, মাইছেনির চর, ভাটি কলকিহারা, ফকিরপাড়া, খেওয়ারচর, জাগিরপাড়া ঘুঘরাকান্দি, বেতমারী, নিলাক্ষিয়া ইউনিয়নের কুশলনগর, সাজিমারা, সাধুরপাড়া ইউনিয়নের আইড়মারী, কুতুবেরচর এলাকায় নদীভাঙন প্রকট আকার ধারণ করেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় শতাধিক বসতভিটা। গাছপালা ও ফসলি জমি চলে গেছে নদীগর্ভে। প্রতিদিন ভাঙছে বসতভিটা, ফসলি জমি। প্রতিনিয়ত ভাঙনের ফলে নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। আতঙ্কে অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন ঘরবাড়ি, খোলা আকাশের নিচে বাস করছেন অনেকেই। ভাঙনের ভয়ে আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তারা। এখনো সরকারি বেসরকারি কোনো সহায়তা পাননি ক্ষতিগ্রস্ত কেউ। তবে ত্রাণের চেয়ে ভাঙনরোধে স্থায়ী সমাধান চান তারা। 

ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত কলকিহারা গ্রামের জিনেত আলী, শাহ কামাল, হোসেন মন্ডল জানান, গত কয়েক বছরে ৭ বার নদী ভাঙনের কবলে পড়েছেন তারা। বসতবাড়ি, ফসলি জমি যা ছিলো তা নদীগর্ভে চলে গেছে। এবার ভাঙনে ঘরবাড়ি তোলার জায়গাও অবশিষ্ট নেই। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। 

ফকিরপাড়া গ্রামের বিল্লাল, কালাম, মজমত, শরফত আলী, জাগিপাড়া গ্রামের আবদুল কুদ্দুস, শেখেরচর গ্রামের আতিকুর রহমান ও কুশলনগর গ্রামের মীর কাসেম জানান, পানি কমার সময়েও নদী ভাঙে, বাড়ার সময়ও ভাঙে। এ পর্যন্ত ৩-৪ বার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন তারা। এবারও ভাঙনের কবলে পড়েছেন। ত্রাণ চাই না, সহায়তাও চাই না। ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই হবে। 

ইয়াকুব, মহর আলী, শওকত মিয়া বলেন, তারাও বেশ কয়েকবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন। নদী তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্তরা নিতান্তই অসহায়। অনেকের নতুন করে ঘর তোলার সামর্থ্য পর্যন্ত নেই। কিন্তু ভাঙনরোধে স্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

মেরুরচর হাছেন আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙলে মানুষ যে কতটা অসহায় হয়ে পড়ে তা নিজের চোখে না দেখলে বুঝা যাবে না। ৫-৭ বার করে অনেকের বসতভিটা নদীতে চলে গেছে। জমা জমি সব নদীতে। ছেলে মেয়ে নিয়ে তারা এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন।

এ ব্যাপারে মেরুরচর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন মেরুরচর ইউনিয়নের মানুষ। নদীর পানি এখন বাড়তেছে, যে কারনে বেড়েছে ভাঙন। যতটুকু জেনেছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এছাড়া ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হচ্ছে। বরাদ্দ অনুযায়ী তাদের সহায়তা করা হবে।’

এ ব্যাপারে নিলাক্ষিয়া ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান ফর্সা বলেন, সাজিমারা ও কুশলনগর এলাকায় বেশ কিছু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদী গর্ভে চলে গেছে ফসলি জমি ও গাছপালা। স্থায়ীভাবে সমাধান চায় এলাকাবাসী। 

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান জানান, ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রথমে বাঙালপাড়া ও ঘুঘরাকান্দি এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান। ভাঙন এলাকার তালিকা রয়েছে, দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, নদীভাঙনে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের সহযোগিতা করা হবে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তারা ব্যবস্থা নেবে।

আরও পড়ুন

×